মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অচিরেই দেশে গণতন্ত্র হত্যা, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নিধন, বিচারবহির্ভূত হত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে মানুষের আদালতে ইনু ও খায়রুলের বিচার হবে।
রিজভীর ভাষায়, ‘মানুষের আদালতে যাদের বিচার হবে, তাদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকরা ওয়েটিং লিস্টে থাকবেন না, ফাইনাল লিস্টেই থাকবেন।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত বিতর্ক হবে, ততই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে রিজভী আহমেদ বলেন, এ বিতর্কের মধ্যদিয়েই আওয়ামী লীগের তখনকার ভূমিকা বের হয়ে আসবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের অনুশোচনা আছে। এ কারণেই তারা বিএনপি নেতাদের নামে মামলা দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের পুরো বক্তব্যজুড়ে সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী বলেন, ‘গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা বিরোধী দল ও নেতানেত্রী সম্পর্কে দিনরাত হুমকি আর অশ্রাব্য কথা বলছেন। এর মধ্যে এগিয়ে আছেন ভোটারবিহীন সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তার বক্তব্য-বিবৃতি পড়লে মনে হয়, বিএনপি ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলতে পারার ওপর তার মন্ত্রিত্ব থাকা না থাকা নির্ভর করছে।’
ইনুর অতীত কর্মকাণ্ডকে জঙ্গিনেতা লাদেন, জাওয়াহিরি ও শায়খ আবদুর রহমানের সঙ্গে তুলনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, ‘আজকে যে জঙ্গিবাদের উৎপত্তি তা হাসানুল হক ইনুদের ’৭২-’৭৫ সালের সহিংস কর্মকাণ্ড থেকেই শুরু হয়। লাদেনের আবির্ভাবের আগে জঙ্গিবাদের যে স্বরূপ দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী প্রথম দেখেছে তা হলো সত্তরের দশকের প্রথমার্ধে হাসানুল হক ইনুদের গণবাহিনীর সহিংস তাণ্ডব। থানা লুটসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার মতো বীভৎস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আল-কায়েদা-জেএমবির উত্থানের আগে ইনু সাহেবের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে এর রক্তাক্ত তাণ্ডবের প্রকোপ দেশবাসী প্রত্যক্ষÿকরেছে। সেই সময় হাসানুল হক ইনুর আচরণ ছিল লাদেন-জাওয়াহিরি ও শায়খ আবদুর রহমানদের সমতুল্য।’
রিজভী অভিযোগ করেন, বিরোধী নেতা-নেত্রীদের সম্পর্কে অশ্রাব্য কথা বলার প্রতিযোগিতায় হাসানুল হক ইনু সবচেয়ে এগিয়ে। তাঁর প্রতিদিনকার বক্তব্য-বিবৃতি পড়লে মনে হয় যে বিএনপি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলতে পারার ওপরই তাঁর মন্ত্রিত্ব নির্ভর করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লা মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক



