মিঠামইনে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৫
Posted by: News Desk
November 9, 2017
এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ঢাকি ইউনিয়নের চারিগ্রামে জলমহালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন ভাইসহ পাঁচ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাজারের ও উন্মুক্ত জলমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকার মারুফ গ্রুপ ও নবাব-মাসুদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিঠামইন থানার ওসি আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
নিহতরা হলেন, চরিগ্রামের আব্দুল আজিজের তিন ছেলে মাসুম মিয়া (৩৫), মাখন মিয়া (৪২) ও ফেরদৌস মিয়া (৫২) এবং একই গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (২৮) এবং ঢাকি ইউনিয়নের পূর্বহাটি গ্রামের মকবুল মিয়া (৩০)।
মিঠামইন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আহমেদ পলি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তিন জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
মিঠামইন থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনাস্থল দুর্গম হাওরে হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে পাঁচজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে চারিপাড়া গ্রামের সুলেমান এবং মারুফ গ্রুপের সঙ্গে একই এলাকার পল্লব গ্রুপ ও মাসুম গ্রুপের মধ্যে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বেলা দেড়টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুইপক্ষের সঙ্গে যোগ দেয় শত শত মানুষ।
এ সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বল্লম ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে চারজন মারা যান। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আরও একজন। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ২০ জনকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মিঠামইন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জলমহাল সংঘর্ষে নিয়ে নিহত ৫ মিঠামইনে 2017-11-09