Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট

মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ঘনিষ্ঠ মিত্র উইন মিন্টকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে পার্লামেন্ট। তিনি এতোদিন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
উইন মিন্ট গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকারের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। আজ বুধবার পার্লামেন্টের উভয়কক্ষই তাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে বেছে নিয়েছে।
প্রায় অর্ধশতকের সেনা শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসে সু চির দল পর ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)।
বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করায় মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় এনএলডির জ্যেষ্ঠ নেতা টিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন টিন ।
গত বুধবার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে ফেসবুকে এক পোস্টে বলা হয়, বিশ্রাম নিতে থিন কিয়াও পদত্যাগ করেছেন। তার এই পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
গত কয়েক মাস ধরেই ৭১ বছর বয়সী টিনের স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হচ্ছিল বলে জানায় বিবিসি। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছিল না।
থিন মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে এলেও কার্যত সু চি সরকার পরিচালনা করছিলেন। থিনের পদত্যাগের পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিয়ানমার পার্লামেন্টের হাতে সাত দিন সময় ছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে দৌঁড়ে ছিলেন মিন্ট এবং আরও দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনে ৬৬৪ ভোটের (সংসদের দুই কক্ষের সদস্য) মধ্যে ৪০৩টি পেয়ে জিতে যান মিনত। আগের প্রেসিডেন্ট কিয়াও ২০১৬ সালের নির্বাচনে পেয়েছিলেন ৩৬০ ভোট।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, মিন্টকে সু চি’র আস্থাভাজন মিত্রদের বলয়ের একজন বলে মনে করা হয়। ৬৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিক মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বমর জনগোষ্ঠীর। ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা মিনত সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৮ সালে মিয়ানমারে স্বৈরশাসক জেনারেল নে উইনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন মিন্ট। সেজন্য তাকে ওই সময় কারারুদ্ধও হতে হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কিছুটা নমনীয় হয়ে ২০১৫ সালে যে নির্বাচনের আয়োজন করে, তাতে সু চি’র নেতৃত্বে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা এনএলডি’র হয়ে অংশ নেন মিন্টও।
ওই নির্বাচনে জিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় সু চি সরকার চালানো শুরু করলে তাতে বেশ প্রভাব দেখা যায় মিনতের। তিনি সবশেষ সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
‘বিশ্রাম নিতে’ গত ২১ মার্চ ৭১ বছর বয়সী কিয়াও প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান মিন্ট। সু চি’র একেবারে আস্থাভাজন হিসেবে চিহ্নিত বলে তাকেই প্রেসিডেন্ট পদে ভাবা হচ্ছিলো, সে পর্যন্ত হলোও তাই। কেউ কেউ বলছেন, মিন্ট নির্বাচিত হলেও কার্যত তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টেরও কাজকর্ম সারবেন সু চি।
কিয়াও ছিলেন অর্ধ-শতাব্দীকালেরও বেশি সময়ে মিয়ানমারের প্রথম বেসামরিক এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তবে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থি বৌদ্ধদের ধারাবাহিক জাতিগত নির্মূল অভিযান, হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও ব্যাপক নিপীড়নের বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের বিবৃতি দেননি। এ জাতীয় ঘটনা স্বীকার বা অস্বীকারও করেননি। সু চি রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞকে আড়াল করার জন্য নানা মিথ্যা বিবৃতি ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিলেও সব ব্যাপারেই নীরব থেকেছেন তিনি।
তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া মিন্ট রাখাইনে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সংকট নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন কি-না, সে অপেক্ষায়ই রয়েছেন সবাই।
x

Check Also

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, স্পিকার হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ...