Don't Miss
Home / আইন আদালত / মুফতি হান্নানের রিভিউ খারিজ রায়ের কপি কারাগারে

মুফতি হান্নানের রিভিউ খারিজ রায়ের কপি কারাগারে

এমএনএ রিপোর্ট : জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষনেতা মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসির রায়ের রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের অনুলিপি গতকাল মঙ্গলবার রাতে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান জানান, ফাঁসির রায়ের রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের অনুলিপি গতকাল মঙ্গলবার রাতে কারাগারে পৌঁছালেও তা তাদের পড়ে শুনানো হবে আজ বুধবার সকালে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, তিনি গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসির রায়ের রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের অনুলিপি পেয়েছেন। অনুলিপির কপি পাওয়ার পর নিয়মানুযায়ি যাচাই-বাছাই করে রাত ৮টার দিকে তা কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান ও বিপুল কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং অপর আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপন সিলেট জেলা কারাগারে ফাঁসির সেলে বন্দি রয়েছেন।

আইনি প্রক্রিয়ার প্রায় সব ধাপ শেষ। এখন রইলো বাকি শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়টি। নিয়ম অনুসারে এ ধাপ শেষ হয়ে গেলে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষনেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ তিন জঙ্গিকে। অন্য দু’জন হচ্ছেন- শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপন।

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা চাওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যাত হলে কারাবিধি অনুসারে প্রথম দুজনের কাশিমপুরে এবং অন্যজনের সিলেটে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়।

হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।

মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন।

প্রায় সাত বছর পর গত বছরের ০৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ০৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন আপিল না করলেও আপিল বিভাগ তার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেন।

আপিলের শুনানি শেষে গত বছরের ০৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল খারিজ হয়ে যায়। গত ১৭ জানুয়ারি এ রায় প্রকাশের পর আসামিরা রিভিউ করেন। গত রবিবার (১৯ মার্চ) দেওয়া রিভিউ খারিজের রায় গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।

এ রায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে মঙ্গলবারই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সাত জায়গায় পাঠানো হয়।

x

Check Also

এক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

আদালত প্রতিবেদক সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ...