এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : আগামী রমজানে রাজধানী ঢাকার মাংস বিক্রেতাদের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংসের দাম ঠিক হয়েছে ৪৭৫ টাকা।
এ ছাড়া ভারতীয় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৪০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৪০ টাকা, খাসির মাংস ৭২৫ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মেয়রের এক মতবিনিময় সভায় এই দর নির্ধারণ করা হয়।
মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, প্রথম রোজা থেকে ২৬ রোজা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় এ দামে মাংস বিক্রি করতে হবে। কেউ অতিরিক্ত দাম রাখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোজার মাসে জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে
এবারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু কাঁচাবাজারের মাংসের দোকান ছাড়াও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ মাংস বিক্রি করে, এমন সব দোকানকে এই দামেই মাংস বিক্রি করতে হবে।
এভাবে মাংসের দাম বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, ধর্মঘট করে মাংস ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ল ১০০ টাকার বেশি। তাঁরা বলেন, হাট ইজারাদারের চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে ৩০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করতে পারবেন। এভাবে মাংসের দাম নির্ধারণ করায় ধর্মঘট ও হাট ইজারাদারদের চাঁদাবাজিকে যৌক্তিক করে দেওয়া হলো। এখন ভোক্তাদের বিকল্প আমিষের সন্ধানে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকল না।
গতবছর রমজানে গরুর মাংস ৪২০, মহিষ ৪০০, খাসি ৫৭০, ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৪৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
গত রোজার ঈদের পর ৪০০ টাকায় এক কেজি মাংস বিক্রি হতো। তবে এরপর গরুর মাংসের ব্যবসা নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কয়েকটি দাবিতে গত ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনের কর্মবিরতি পালন করেন মাংস ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা হয়ে যায়। এরপর ১ রমজান থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেন মাংস ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আলোচনার সময় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন তাঁরা।
এই আলোচনা ছাড়াও বিভিন্ন সময় মাংস ব্যবসায়ীরা বলেন, গাবতলী পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ, অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান থেকে গরু আমদানি করা, চামড়া বিক্রি করা গেলে গরুর মাংস ৩০০ টাকায় প্রতি কেজি দরে বিক্রি করতে পারবেন। তবে শবে বরাতের সময় রাজধানীর বহু এলাকায় ৫৫০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি হয়।
রোজার ঈদের সময় ৪৭৫ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, গাবতলী গরুর হাটসহ অন্যান্য হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে এবং আমাদের দাবিগুলো মানা হলে গরুর মাংস ৩০০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। আজ মেয়র দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। ঈদের পরে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। ঈদের সময় মাংসের দাম যাতে না বাড়ে, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করব।
চাঁদাবাজিসহ ইজারাদারদের অত্যাচারের বিষয়ে বিভিন্ন সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

