এমএনএ রিপোর্ট : রাজনৈতিক দলের মধ্যস্থতা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির সভাপতিত্বে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় । এতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ২৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আমাদের কারও কাছে যাওয়ার দরকার নেই। ইসি একটি স্বাধীন সত্তা। আমরা শপথ নিয়েছি, কারও চাপে নতি স্বীকার করবো না। কারও কাছে যাবো না। এটাই যথেষ্ট। তাছাড়া আমাদের এখানে আন্তর্জাতিক অনেক মধ্যস্থতাকারী এসেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা করাতে পারেননি। তাই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আমরা নিতে চাই না, এটা আমাদের কাজও নয়।’
সংলাপের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিইসি বলেন,‘এটি কমিশনের সিদ্ধান্ত। যদি পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে করি সেনাবাহিনী দরকার আছে, তাহলে থাকবে’।
বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূলে রয়েছে দাবি করে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘বর্তমানে আমরা অনূকুল ও আস্থাশীল অবস্থানে আছি। কেউ আমাদের বিরক্ত করেননি। কমিশনে কেউ তার দাবি-দাওয়া নিয়ে আসেননি। আমরা এখনও পর্যন্ত আস্থাশীল আছি এবং থাকবো।’
নির্বাচনের সময় কী ধরনের সরকার থাকবে, সেই ব্যাপারে কমিশনের কোনও ভূমিকা নেই বলে মনে করেন সিইসি।
তিনি আরও বলেন, ‘ইসি একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান। সরকার যে নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক করে দেয়, সেভাবেই আমাদের ভোট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। এক সময় হ্যাঁ বা না ভোট ছিল। সেই সময়কার কমিশন সেই ভোট
করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যে পদ্ধতি ছিল তারা সেটাই করেছে। আমাদের এখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে আবেদনটা ছিল, সেই আবেদন সবশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কি আমরা দেখিনি?
সিইসি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি কে হবে তার হিসাব-নিকাশ করার বিষয়টিও আমরা দেখেছি। কাজেই সবকিছু নির্ভর করে সরকার কোন ধরনের পরিবেশ ঠিক করে দেয়। এখন এই সরকারের অধীনে যে অবস্থা আছে সেভাবে নির্বাচন করতে হলে আমরা সেটি করবো। আর যদি সরকার পরিবর্তন করে তাহলে সেইভাবে হবে। কাজেই নির্বাচনের সময় কোন ধরনের সরকার থাকবে সে ব্যাপারে আমাদের কোনও ভূমিকা থাকার কথা নয়। আমরা তা নির্ধারণ করতে পারিও না।’
নির্বাচনের মাঠে যে অনেক সমস্যা ও জটিলতা রয়েছে তা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় এ সমস্যা আমাদের আরও বেশি।কারণ গণতান্ত্রিক আয়ুষ্কাল আমাদের কম। কখনও হ্যাঁ-না ভোট,কখনও নির্বাচনি সরকারের অধীনে নির্বাচন,একব্যক্তির অধীনে নির্বাচন;এই অবস্থায় চলেছি।টানা তিনটি নির্বাচন একই নিয়মে করতে পারিনি আমরা।কাজেই সমস্যা তো আমাদের আছেই।’
আজকের সংলাপে অনলাইন মিডিয়ার দুজন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অংশ নেননি তারা।
এর আগে গতকাল বুধবার প্রিন্টমিডিয়ার সম্পাদক, বার্তাপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। এ সময় সব দলের অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার পক্ষে মত দেন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যে ক্ষমতা আছে সেটির প্রয়োগ করার ওপরও জোর দেন তারা।
ইসি সূত্র জানায়, সংলাপে কমিশন প্রণীত নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তাদের পরামর্শ ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে কমিশন তাদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই থেকে সংলাপ শুরু করে ইসি। প্রথম দিন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, ‘না’ ভোট প্রবর্তন করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন।
আগামী ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে ইসি। ওই দিন সকালে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের সংগে সংলাপ হওয়ার কথা রয়েছে। আর বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) সংগে বৈঠক হবে।
পরে ২৮ আগস্ট সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মুসলীম লীগ-বিএমএল আর বিকাল ৩ টায় খেলাফত মজলিশের সঙ্গে বসবে ইসি। ৩০ আগস্ট সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আর বিকাল ৩ টায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার সঙ্গে বসবে ইসি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

