রাজীবের চিকিৎসা ব্যয় দিতে হবে বাস মালিককে
Posted by: News Desk
April 4, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো তিতুমীর কলেজের স্নাতকের ছাত্র রাজীব হোসেনের চিকিৎসা ব্যয় ওই দুই বাস মালিককে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ বুধবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ নির্দেশ দেন। রুলে ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হাত হারানো রাজীব হোসেনকে কেন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
দুই বাসের টক্করে কলেজছাত্র রাজীবের ডান হাত বিছিন্ন হওয়ার সংবাদ গতকাল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়। সংবাদটি যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল রিটটি করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
পরে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, যাত্রী সাধারণের চলাচল নিরাপদ করতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনে আইন সংশোধন ও নতুন করে বিধিমালা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতুসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ আট বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল রিটটি করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাংলামটর থেকে ফার্মগেটমুখী বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। সেটি কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগন্যালে এসে থামে। এ সময় একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে দোতলা বাসের পাশের ফাঁক দিয়ে বাঁ দিক গা ঘেঁষে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় দুই বাসের প্রবল চাপে রাজিবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দোতলা বাসের সঙ্গে ঝুলতে থাকে। হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে।
-

-
দুই বাসের ফাঁকে আটকে পড়েছে কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের ডান হাত। বাসের চাপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে হাতটি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়ে।
দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাঁকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। শমরিতা হাসপাতাল সূত্র বলেছে, বিচ্ছিন্ন হওয়া হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব নয়, তাঁর অবস্থা গুরুতর। গতকালই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।
শমরিতা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) চিকিৎসক মো. হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাজীবের জ্ঞান আছে, কিন্তু একটা ঘোরের মধ্য আছেন। তাঁর সারা শরীরে ব্যথা। গতকাল সন্ধ্যার দিকে তাঁকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর বাহুর নিচ থেকে পুরোটাই কাটা পড়েছে। ক্ষতগুলো ঠিক করা হয়েছে। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। এই আঘাত ছাড়া আর কোনো বড় আঘাত নেই।
রাজীবের একজন স্বজন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর রাজীবের কনুইয়ের ওপর থেকে ডান হাতের অংশটি বিচ্ছিন্ন করেছেন চিকিৎসক। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মো. হোসেন বলেন, রাজীবের পরিবার জানিয়েছে, এখানে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছে পরিবার।
এর আগে রাজীব হোসেনের খালা জাহানারা বেগম বলেন, ওর জ্ঞান এখনো পুরোপুরি ফেরেনি। মাঝে মাঝে সে শরীর নাড়াচ্ছে। বাম হাত দিয়ে ডান হাতটা খুঁজছে।
জাহানারা বেগম বলেন, তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগানোর মতো সাধ্য আমাদের নেই। গতকাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত ওষুধের দামসহ দেড় লাখ টাকা বিল হয়েছে। এর মধ্যে ওষুধের খরচ ছিল ১৭ হাজার। আমরা ৫০ হাজার টাকা দিতে পেরেছি। বাকি টাকা পরে দেব—এমন আবেদন লিখিতভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছি। এখন ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছি।
রাজীবের মা-বাবা নেই। স্বজনদের সহৃদয় সহযোগিতায় কষ্টেসৃষ্টে পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন। থাকেন যাত্রাবাড়ীর মিরহাজিরবাগের একটি মেসে।
হাসপাতালে রাজীবের মামা মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সরকারসহ সবার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। সুস্থ হলে প্রধানমন্ত্রী যেন রাজীবকে একটি চাকরি দেন—এমন আবেদন করেন তিনি।
বাস ব্যয় চিকিৎসা রাজীবের মালিককে 2018-04-04