রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয় : খালেদা
Posted by: News Desk
October 30, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : শুধু কথার কথা নয়, কাজে প্রমাণ করে দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে ফেরাতে হবে। বাংলাদেশ খুব গরিব দেশ। বাংলাদেশের পক্ষে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। আজ সোমবার দুপুরে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন করার সময় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সম্প্রদায়ের প্রতি এ আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এসময় তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা খুবই দুর্বল। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।
রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করতে দুপুর ১টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে উখিয়ার শরণার্থী শিবির যান বিএনপি চেয়ারপারসন। দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা রয়েছেন। সেখানে ময়নার গোনা হাকিমপুর ও বালুখালি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে ত্রাণ বিতরণ করেন। এরপর বালুখালী পানবাজারে স্থাপিত বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর চিকিৎসা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে পাঁচ হাজার শিশুখাদ্য ও পাঁচ হাজার প্রসূতি মায়ের জন্য চিকিৎসাসামগ্রী ও খাদ্যের প্যাকেট চিকিৎসকদের কাছে হস্তান্তর করেন।
ময়নার গোনায় ত্রাণ বিতরণের সময় খালেদা জিয়া বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সরকারের যেভাবে দাঁড়ানোর কথা ছিল, সেভাবে তারা দাঁড়ায়নি। এমনকি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে ঠিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়নি।
মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘মানবতার স্বার্থে আপনাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। তাদের নিরাপত্তাসহ সকল নাগরিক অধিকার দিন। বর্ষা গেল, সামনে শীত আসছে। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ৪৫ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী ১১০ টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শিশুখাদ্য ও ৫ হাজার প্রসূতি মায়ের খাদ্য তদারককারী সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে তিনি রওনা দেন। পথে হিমছড়ি, পেঁচার দ্বীপ, রেজুখাল সেতুর দুই প্রান্ত, উখিয়ার সোনাপাড়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। উখিয়ার যাত্রাপথে বিপুলসংখ্যক নারীর উপস্থিতি দেখা গেছে।
রোহিঙ্গাদের দেখতে গত শনিবার ঢাকা থেকে রওনা হয়ে চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর গতকাল রবিবার রাতে কক্সবাজারে পৌঁছান খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছানোর আগেই সকালে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য আনা ৪৫ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান।
ত্রাণ হিসেবে প্রতি পরিবার পাবে ১০ কেজি চাল, কয়েক কেজি করে ডাল ও প্রয়োজনীয় কাপড়। ৫ হাজার শিশুকে দুধসহ শিশু খাদ্য ও ৫ হাজার প্রসূতি মাকে গর্ভকালীন প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হবে।
ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মইন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ৩টার দিকে ত্রাণ কার্যক্রম শেষে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। রোহিঙ্গাদের দেখতে গত শনিবার ঢাকা থেকে রওনা হয়ে চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি করে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছান খালেদা জিয়া। সার্কিট হাউসে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্নাসহ জেলার শীর্ষ নেতারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
গত শনিবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হওয়ার পর চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে বিকেলে ফেনীতে হামলার মুখে পড়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালালে গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়িসহ বহরের অন্তত ৩০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা চেয়ারপারসনের সঙ্গে রয়েছেন।
খালেদা জিয়া আশ্রয় নয় রোহিঙ্গাদের দেয়া দীর্ঘদিন সম্ভব 2017-10-30