রোহিঙ্গা সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র
Posted by: News Desk
November 5, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : মিয়ানমারকে শাস্তি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান চায় বলে মন্তব্য করেছেন সফররত দেশটির রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যানন।
আজ রবিবার বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ অংশীদারিত্ব সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সংলাপ শুরু হয়।
সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন থমাস এ শ্যানন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।
ঢাকা সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস শ্যানন বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের কূটনৈতিক সমাধানেই জোর দিচ্ছে তার দেশ।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চাইতে চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের দিকেই নজর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান শ্যানন।
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কাজ করছে সেজন্য ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ‘শক্ত’ বলে মনে করেন তিনি।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত অগাস্টের শেষ ভাগ থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকেই আরো চার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে।
বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর সৃষ্টি করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করাসহ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়।
বাংলাদেশের প্রস্তাবের কোনো জবাব না দিয়েই গত ৩১ অক্টোবর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেরির জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চির দপ্তরের মহা পরিচালক জ তাই।
তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গত শুক্রবার বাংলাদেশে আসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের নেতা সিমন হেনশ বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করার দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের।
গত বছর গণতন্ত্রে ফেরার পর মিয়ানমারের ওপর থেকে তুলে নেওয়া কিছু অবরোধ ফের আরোপের চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য গত সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাবও তোলা হয়।
প্রস্তাবটি পাস হলে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের উপর সুনির্দিষ্ট অবরোধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।
এর প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার বলছে, অবরোধ পরিস্থিতি শুধু আরো খারাপই করবে।
যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমস্যার সমাধান রোহিঙ্গা চায় 2017-11-05