শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর ১২ মার্চ!
Posted by: News Desk
February 22, 2018
এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : ঢালিউডের অলোচিত জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস আজ থেকে সাবেক দম্পতি। অপু বিশ্বাসকে তার স্বামী চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিচ্ছেদনামা পাঠানোর তিন মাস পূর্ণ হল আজ ২২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। তবে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর ১২ মার্চ!
গত বছরের ২২ নভেম্বর শাকিব খান মুসলিম পারিবারিক আইন-১৯৬১-এর ৭ (১) ধারা অনুসারে বিচ্ছেদের নোটিশটি ডাকযোগে ডিএনসিসির কাছেও পাঠান শাকিব। সে হিসেবে আজ ২২ ফেব্রুয়ারি তিন মাস পূর্ণ হলো। যেহেতু দুজনের মধ্যে আর সমঝোতা হয়নি তাই আইন অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার ঢালিউডের আলোচিত দম্পতি শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে গেছে বলে চলচ্চিত্র পাড়ায় অলোচনা চলছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ষটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র তারকা দম্পতি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদ এখনও কার্যকর হয়নি। আর এ বিচ্ছেদ কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামী ১২ মার্চ। কারণ সেদিনই ‘শাকিব-অপুর তৃতীয় ও শেষ শুনানি হবে। বিচ্ছেদ কার্যকরের বিষয়ে সেদিনই সবকিছু চূড়ান্ত হবে।
শাকিব খান তাঁর আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে অপুর কাছে বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠান। একই সঙ্গে তিনি শাকিব খানের পক্ষে ডিনএসিসির মেয়র কার্যালয়, অপু বিশ্বাসের ঢাকার নিকেতনের বাসা এবং বগুড়ার ঠিকানায়ও বিচ্ছেদের এই নোটিশ পাঠান। বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে নোটিশে বলা হয়, অপু বিশ্বাস শাকিবের পছন্দের সীমার মধ্যে থাকেননি। সম্প্রতি তাদের সন্তানকে গৃহপরিচারিকার কাছে রেখে দেশের বাইরে যান অপু।
অপু বিশ্বাস গত ১২ ডিসেম্বর এই চিঠি হাতে পান। বিচ্ছেদের নোটিশের চিঠি হাতে পাওয়ার পর গত ১২ জানুয়ারি ডিনএসিসি প্রথম সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে। প্রথম বৈঠকে অপু উপস্থিত থাকলেও শুটিংয়ের ব্যস্ততায় তখন থাকতে পারেননি শাকিব। ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না শাকিব এবং অপু। ওই সময় শাকিব শুটিংয়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। তবে দেশে থাকলেও বৈঠকে যাননি অপু।
২২ নভেম্বরের হিসেবে নির্ধারিত তিন মাসের তারিখ ধরে গণমাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার খবর প্রকাশিত হয় তাদের বিচ্ছেদ কার্যকর হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।
এ ব্যাপারে চলতি মাসের শুরুর দিকে শাকিবের পক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, আইন অনুযায়ী ২২ ফেব্রুয়ারি শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হবে। এর পর শাকিব দেনমোহরের টাকা পরিশোধ ছাড়াও প্রতি মাসে সন্তানের খরচ বাবদ অপুকে এক লাখ টাকা প্রদান করবেন।
তবে ডিএনসিসির কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী এ দম্পতি সংসার টিকিয়ে রাখা না রাখার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আরও কিছুদিন সময় পেলেন।
এদিকে প্রথমে তীব্র বিরোধিতা করলেও শাকিবের তালাক মেনেও নিয়েছেন অপু। ২০০৮ সালে বিয়ে করেছিলেন ঢালিউডের এ সফল জুটি। সেসময় ধর্মান্তরিত হয়ে অপু ইসলাম নাম রেখে শাকিবকে মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেন অপু। আব্রাম খান জয় নামের তাদের একটি পুত্র সন্তান আছে। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে সংসার করলেও বিয়ের বিষয়টি শাকিব-অপু গোপন রেখেছিলেন। গত বছর বিয়ের খবর ফাঁস করে দেন অপু। যা শোবিজ জগতে আলোড়ন তুলেছিল। এরপর তাদের দীর্ঘ দাম্পত্যের নানা খুঁটিনাটি-মতবিরোধ সামনে এসেছে। বিয়ের খবর প্রকাশ করার পরপরই শাকিব-অপুর সম্পর্কের অবনতি হয়। যার চূড়ান্ত রূপ পায় নভেম্বরে।
২০০৬ সালে চলচ্চিত্রে শাকিব-অপু জুটির যাত্রা শুরু। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল দুজনে গোপনে বিয়ে করেন এবং গত সেপ্টেম্বরে কলকাতায় তাদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি তারা গোপন রেখেছিলেন।
এরপর গত ১০ এপ্রিল সন্তান কোলে টেলিভিশন লাইভে এসে নাটকীয়ভাবে এ বিষয়ে মুখ খোলেন অপু। শুরুতে এ নিয়ে শাকিব নানা কথা বললেও পরে মিটমাট করে ফেলেন। কিন্তু বিয়ের খবর প্রকাশের ৯ মাসের মাথায় অপুকে বিচ্ছেদনামা পাঠান শাকিব।
অপু ৭২টি ছবিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন; যার মধ্যে বেশিরভাগ ছবি ব্যবসা সফল।
বিবাহ বিচ্ছেদ শাকিব-অপুর ১২ মার্চ কার্যকর 2018-02-22