Don't Miss
Home / ব্যবসা ও বাণিজ্য / সিঙ্গার বাংলাদেশ একীভূত করবে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে
সিঙ্গার

সিঙ্গার বাংলাদেশ একীভূত করবে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ শতভাগ মালিকানায় থাকা সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্সের লিমিটেডকে (আইএএল) একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের পর্ষদ। গেল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভায় সিঙ্গার বাংলাদেশের পর্ষদ আইএএলকে একীভূতকরণ স্কিম অনুমোদন করেছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিঙ্গার বাংলাদেশ জানিয়েছে, ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতা, শেয়ারহোল্ডার এবং সবশেষে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে একীভূতকরণ স্কিম কার্যকর করা হবে। আইএএল রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার ও অন্যান্য গৃহস্থালী অ্যাপ্লায়েন্সেস উৎপাদন করে থাকে। কোম্পানিটির কারখানা সাভারের হেমায়েতপুরে।

২০১৪ সালে আইএএল প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ইনকরপোরেটেড হয়। শুরু থেকেই আইএএল সিঙ্গার বাংলাদেশের সহযোগী কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর আইএএলকে সাবসিডিয়ারি হিসেবে অধিগ্রহণ করে সিঙ্গার বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে গেল বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সাংহাই সনলো সাংলিং এন্টারপ্রাইজ গ্রæপ কোম্পানি লিমিটেড এবং ২৬ ফেব্রæয়ারি সানমান করপোরেশন লিমিটেডের কাছ থেকে আইএএলের সব শেয়ার কিনে নেয়। এতে কোম্পানিটি সিঙ্গার বাংলাদেশের শতভাগ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারিতে পরিণত হয়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে আইএএলের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪৯ কোটি টাকা এবং মোট দায় ১০৫ কোটি টাকা। ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা, যেখানে এর আগের বছরে বিক্রি ছিল ২১৪ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটি পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১০ কোটি টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৮ কোটি টাকা। অবশ্য কর পরিশোধের পর ২০১৯ হিসাব বছরে ৩৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে, যেখানে এর আগের হিসাব বছরে লোকসান ছিল ৫৮ লাখ টাকা।

এদিকে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশের সমন্বিত বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা, এর আগের বছরে যেখানে মুনাফা ছিল ৯২ কোটি টাকা।

আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৩৫ পয়সা, যা এর আগের বছরে ছিল ৯ টাকা ২০ পয়সা। ২০১৯ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ।

চলতি ২০২০ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) সিঙ্গার বাংলাদেশের বিক্রি হয়েছে ৬০১ কোটি টাকা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। আর আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৫১ কোটি টাকা। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ১৪ পয়সা। ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ২৪ পয়সায়।

ব্যবসা ও মুনাফা কমার পাশাপাশি করোনার কারণে সিঙ্গার বাংলাদেশের নগদ অর্থ প্রবাহ কমে গেছে। এ বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ প্রবাহের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৩৯৪ কোটি টাকা। যা গত বছরের ৩০ জুন শেষে ছিল ঋণাত্মক ৬৫ কোটি টাকা।

১৯৮৩ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশের মোট শেয়ারের মধ্যে ৫৭ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, প্রতিষ্ঠান ১৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বিদেশী ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

গেল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ার সর্বশেষ ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বোচ্চ ২১৬ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনি¤œ ১৩০ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

x

Check Also

জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয় : ডা. শফিকুর রহমান

এমএনএ নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ...