এমএনএ ফিচার ডেস্ক : দীর্ঘ ৫২ বছর খুঁজে আমেরিকার সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যাংক ডাকাতির নেপথ্যে থাকা এক পলাতককে শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানকার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এমন খবর দিয়েছে বিবিসিকে। নাম তার টেড কনরাড। তিনি ওহাইয়ো রাজ্যের ক্লিভল্যান্ডের সোসাইটি ন্যাশনাল ব্যাংকে টেলার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ব্যাংকটিতে ডাকাতি করে ফেরারি হন। তখন তিনি দুই লাখ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে উধাও হয়ে যান। যা বাংলাদেশি টাকায় ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯১ টাকা। বর্তমানে সেই টাকা ১৭ লাখ ডলারের সমমূল্যের। যা বাংলাদেশি টাকায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শালস সার্ভিসের তদন্তকারীরা বলছেন, ডাকাতির পরে তিনি শান্ত ও সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন।
গেল মে-তে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কনরাড। যখন তিনি ব্যাংক ডাকাতি করেন তখন তার বয়স মাত্র ২০ বছর। ব্যাংকের ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়, তখন একটি ব্যাগে করে ঐ ডলার নিয়ে বেরিয়ে যান। ঘুণাক্ষরেও তাকে কেউ সন্দেহ করতে পারেনি। কনরাড অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার দুদিন পর ব্যাংকের অন্যান্য কর্মীরা জানতে পারেন যে ব্যাংকের টাকা লুট হয়েছে। এরপর গত অর্ধশত বছর ধরে তাকে তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে।
অনিশ্চয়তার পথে বঙ্গভ্যাক্স টিকার অনুমোদন, বানরের ওপর অ্যানিম্যাল ট্রায়াল নিয়ে দ্বিপাক্ষিক জটিলতা মার্শাল সার্ভিস বলছে, বন্ধুদের তিনি ব্যাংক ডাকাতির ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন। এটা যে কতটা সহজ কাজ, তা নিয়ে তাকে গর্বও করতে দেখা গেছে। এরপর তিনি এতটা আত্মমগ্ন ছিলেন যে ১৯৬৮ সালে ম্যাককুইনের ডাকাতি নিয়ে বানানো চলচ্চিত্র থমাস ক্রাউন অ্যাফেয়ার এক ডজনেরও বেশি বার দেখেছেন।
এই সিনেমা দেখেই তিনি ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অর্থ নিয়ে হাপিস হওয়ার পর কনরাড তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন থমাস র্যানডেলে। ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে যান। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ৬২১ মাইল দূরে বোস্টনের উপকণ্ঠে থিতু হন। পরে শান্ত ও নিরীহ জীবন যাপন বেছে নেন এই টেলার।
৪০ বছর ব্যবহৃত গাড়ির ডিলার হিসেবে কাজ করেন। যুক্ত ছিলেন গলফ ক্লাবেও। গেল কয়েক দশক ধরে তার ডাকাতির মামলাটি নিরুত্তাপ ছিল। কিন্তু কনরাডের মৃত্যুর পর তার শোকসংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় তদন্তকারীরা সচেতন হয়ে ওঠেন। পত্রিকায় প্রকাশিত তার ছবির সঙ্গে মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে ১৯৬০ সালে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

