এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : সিরিজ জয়ে সফরকারী বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩১২ রানের টার্গেট দিয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। শুরুটা ভালো হলেও শেষ মুহুর্তে তাসকিনের হ্যাটট্রিকে ১ বল বাকি থাকতে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।
আজ মঙ্গলবার ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় সফরকারী বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলংকা।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে গত শনিবার শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। এতে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায় মাশরাফি বাহিনী।
লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে চোখ রাখছে টিম বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাঙ্গিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা।
বাংলাদেশ একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই। অন্যদিকে, ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জে তিনটি পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকরা। বাদ পড়েছেন সাচিথ পাথিরানা, লক্ষণ সান্দাকান ও লাহিরু কুমারা। পেস শক্তি বাড়াতে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার কথা থাকলেও হাতের ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকওয়েলা। তার জায়গায় ডাক পেয়েছেন অফস্পিন অলরাউন্ডার দিলরুয়ান পেরেরা।
প্রথম ম্যাচের বড় ব্যবধানে হারের পর শ্রীলঙ্কা যে বড় স্কোর গড়তে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তা শুরুতে আভাস পাওয়া যায়। তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারানোর পর কুশল মেন্ডিস নিয়ে দলকে অনেকটা এগিয়ে নেন উপুল থারাঙ্গা। শতরানে করেছেন দুইজনে মিলে। কিছুতেই সফলতা পাচ্ছিল না টাইগার বোলাররা।
প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার দুর্গে আঘাত হানেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা। এবারও শিকার সেই দানুশকা গুনাতিলাকা। মাশরাফির স্লোয়ার শর্ট বলে বাঁহাতি গুনাতিলাকা পুল করে বল তুললেন আকাশে। ছুটেছিলেন তিনজন ফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত কিপিং থেকে ফাইন লেগের দিকে অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নিলেন মুশফিক। ৯ রানে আউট গুনাতিলাকা। এরপর জুটি গড়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন উপুল থারাঙ্গা ও কুশল মেন্ডিস। দু’জন মিলে স্কোরবোর্ডে ১১১ রান তোলেন।
দলীয় ১২৯ রানের মাথায় ‘নো’ বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউটের ফাঁদে পড়েন থারাঙ্গা (৬৫)। সরাসরি থ্রোতে সথীর্থদের উদযাপনের মধ্যমনি বনে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এটি ছিল থারাঙ্গার ক্যারিয়ারের ২০০তম ওয়ানডে।
থারাঙ্গা বিদাল নিলেও ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআই সেঞ্চুরি উদযাপন করেন তরুণ কুশল মেন্ডিস। দিনেশ চান্দিমালকে নিয়ে যোগ করেন আরও ৮৩ রান। দলীয় ২১২ রানে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডব্লুর শিকার হন দিনেশ চান্দিমাল (২৪)।
পরের ওভারেই (৩৮তম) চমৎকার ক্যাচে সেঞ্চুরিয়ান মেন্ডিসকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। কাঁধে আঘাত হানার পর পেছনে দৌড়ে গিয়ে শূন্যে থাকা বল তালুবন্দি করেন।
গুনারাত্নে-সিরিবর্ধনা জুটি (৫৫) ভেঙে উইকেটের খাতায় নাম লেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা (৩০)। পরের ওভারেই (৪৭তম) সরাসরি থ্রোতে থিসারা পেরেরাকে রানআউট করেন মুশফিক। একইভাবে দিলরুয়ান পেরেরাকে ফেরান ‘মি. ডিপেন্ডেবল’। দু’জনই ৯ রান করে বিদায় নেন।
ইনিংসের শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক উল্লাসে মাতেন তাসকিন। তৃতীয়, চতুর্থ ও ৫ম বলে পর পর সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত হন আসেলা গুনারত্নে (৩৯)। মোস্তাফিজের হাতে ধরা পড়েন সুরাঙ্গা লাকমল। হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে নুয়ান প্রদীপের স্ট্যাম্প ভাঙেন টাইগার পেস সেনসেশন।
একাই চারটি উইকেট দখল করেন তাসকিন। একটি করে নেন মাশরাফি, মিরাজ ও মোস্তাফিজ।
প্রতিপক্ষ যখন শ্রীলঙ্কা, সেই পয়মন্ত ব্যাপারটা যেন আরও বেশি করে ঘটে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে পাঁচটি জয় পেয়েছে, তিনটিই মার্চে। এর মধ্যে ২৮ মার্চ, অর্থাৱ আজকের তারিখে আছে স্মরণীয় এক জয়। সেবার যে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ৩০০-র বেশি রান তুলেও হেরেছিল। বাংলাদেশ আজ ৩১২ রান তাড়া করার এই চ্যালেঞ্জে তাই প্রেরণা খুঁজে নিতে পারে।
রেকর্ড বলছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে না হলেও বাংলাদেশের ৩০০-র বেশি তাড়া করে জেতার তিনটি কীর্তি কিন্তু আছে। এর মধ্যে গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের দেওয়া ৩১৯ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পেরিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। জিতেছিল ৬ উইকেটে। সেটিও ঘটেছিল মার্চে, ২০১৫ সালে।
২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ৩১৩ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয় বাংলাদেশকে সিরিজও জিতিয়েছিল। যা এখন পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজ জয়। আজও সিরিজ জয়
নিশ্চিত করতে এমনই এক ব্যাটিং দরকার বাংলাদেশের।
৩০০-র বেশি তাড়া করে জেতা আরেকটি ম্যাচ ২০১৩ সালে ফতুল্লায়। ৩০৮ তাড়া করে জেতা সেই ম্যাচ নিউজিল্যান্ডকে দিয়েছিল আরেক বাংলাওয়াশের স্বাদ।
প্রসঙ্গত, এই মাঠেই প্রথম ওয়ানডেতে (২৫ মার্চ) ৯০ রানের দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে লিড নেয় মাশরাফির দল। ৩২৫ রানের টার্গেটে ২৩৪-এ গুটিয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। এর আগে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে শততম টেস্ট ম্যাচটি জিতে ১-১ সমতায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ করেছিল সফরকারীরা।
বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা।
শ্রীলঙ্কা দল: ধানুষ্কা গুনারত্নে, উপুল থারাঙ্গা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল, আসেলা গুনারত্নে, মিলিন্দা সিরিবর্ধনে, থিসারা পেরেরা, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরঙ্গা লাকমল, নুয়ান কুলাসেকেরা, নুয়ান প্রদীপ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

