Don't Miss
Home / সারাদেশ / ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ এর সমাপ্তি ঘোষণা

‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ এর সমাপ্তি ঘোষণা

সিলেট ব্যুরো অফিস : ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলে টানা ১১১ ঘণ্টার অভিযান শেষ হলো। ভবনটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণার কথা জানান সেনা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ব্রিগেডিয়ার ফখরুল আহসান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাতেই সেনাবাহিনী এই অভিযানে অংশ নেয়।

সেনাবাহিনী গতকাল সোমবারই জঙ্গিদের দমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় উল্লেখ করে ফখরুল আহসান আরও বলেন, গতকাল সোমবারের মধ্যেই জঙ্গিদের নিষ্ক্রিয় করতে সমর্থ হয় ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ এ অংশ নেয়া সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা।

তবে আতিয়া মহল জুড়ে জঙ্গিরা বিস্ফোরক পেতে রাখায় পুরো ভবনটিই ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সোমবার অভিযানের পর থেকে আজ মঙ্গলবার সারাদিন ভবনটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক ও বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে। ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে তা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়া হয়।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল আরও বলেন, দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অপারেশন টোয়ালাইটের প্রথম পর্বটি ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। কমান্ডোরা জীবন বাজি রেখে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ২৫ মার্চ দুপুরের মধ্যে নারী-শিশুসহ ওই ভবনের বাসিন্দা ৭৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে। পুরো ভবনের পাঁচতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ অত্যন্ত সন্তর্পনে করা হয়। নিচতলার উদ্ধার অভিযান ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কমান্ডো সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অভিনব পন্থা অবলম্বন করে সব বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আনেন।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল আরও বলেন, অভিযানের দ্বিতীয় পর্বে জঙ্গিদের নির্মূলের কাজ শুরু হয়। এ পর্বে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের পাশাপাশি স্নাইপার দলসহ বিশেষায়িত অনেক সদস্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। তিন দিন বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে গতকাল সোমবার বিকেলের মধ্যেই চার জঙ্গিকে নির্মূল করা হয়।

মূলত গতকাল সোমবারই অভিযান শেষ হয় উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, আরও বিশদ তল্লাশি ও নিশ্চিত হওয়ার জন্যই আজ মঙ্গলবার দিনটিকে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া গতকাল দুটি মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি মঙ্গলবার আরও দু’টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এই মরদেহ দুটিতে সুইসাইডাল ভেস্ট থাকায় তা ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সব কার্যক্রম শেষে ভবনটি মঙ্গলবার পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এবং ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিলেটের আতিয়া ভবনটি এখনো নিরাপদ নয়। সেখানে বিস্ফোরক থাকতে পারে। সেখানে আরও তল্লাশি চালানো হবে। অভিযানের কারণে ভবনটি নড়বড়ে হয়ে গেছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলের অভিযানকে জাতীয় দুর্যোগে সামরিক ও বেসামরিক মেলবন্ধনের অপূর্ব উদাহরণ বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

আজ সকালে আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল অভিযান চালায়। সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ভবনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়। সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, আতিয়া মহলের যেখানে-সেখানে অবিস্ফোরিত অবস্থায় হাতে তৈরি গ্রেনেড ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এ ধরনের গ্রেনেড খুব বিপজ্জনক। বিশেষ করে যদি পিন খোলা অবস্থায় কোনো গ্রেনেড পড়ে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

সকাল থেকে আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের অভিযান চলে। বেলা একটার দিকে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট ও পাঁচটার দিকে আরও দুটি বিস্ফোরণ শোনা যায়। এ সময় ধোঁয়া দেখা গেছে।

আতিয়া মহলের আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। আতিয়া মহল ঘিরে তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সেনাবাহিনী আজ জানায়, আতিয়া মহল থেকে চারটি মৃতদেহ বের করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, নিহত চারজনের মধ্যে একজন মাঈনুল ইসলাম ওরফে মুসা। তাঁরা জানান, মুসা যে ছবি দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেই ছবির সঙ্গে পুলিশের কাছে থাকা ছবির মিল দেখে তাঁরা পরিচয় নিশ্চিত হয়েছেন।

আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা এই বাড়ি গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঘিরে ফেলে পুলিশ। গত শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত গিয়ে অভিযানে অংশ নেয়। এরপর গত শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের প্রথমদিন শনিবার সন্ধ্যায় আতিয়া মহল থেকে তিনশ’গজ দূরে দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন।

অভিযান শুরুর চতুর্থদিন মঙ্গলবার ‘অপারেশন টোয়ালাইট‘ শিরোনামে শুরু হওয়া এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করে সেনাবাহিনী।

x

Check Also

জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৯, মব সহিংসতায় ৩১; নারী-শিশু নির্যাতনের শিকার ৩৫২: এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক হয়রানি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় ...