সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট ও মৌলভীবাজারে কারনেট সুবিধার অপব্যবহার করে প্রায় আট কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।
প্রায় আট কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।
গাড়িগুলোর একটি পাজেরো স্পোর্টস কার ও একটি জাগুয়ার। এর মধ্যে একটিতে ব্রিটিশ নম্বরপ্লেট দেখা যায়।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঈনুল খান আজ সোমবার অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত এক মাসে মৌলভীবাজার ও সিলেট থেকে গাড়িগুলো আটক করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘কারনেট দ্য পেসেজ’ সুবিধার আওতায় প্রায় দশ কোটি টাকা দামের
গাড়ি তিনটি আনার ক্ষেত্রে আট কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
শুল্কমুক্ত সুবিধায় পর্যটকদের গাড়ি নিয়ে আসার সুবিধাকে কারনেট বলা হয়। এই সুবিধার আওতায় পর্যটক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুল্ক ছাড়াই তাদের গাড়ি আনতে পারেন। তবে ঐ সুবিধা ২০১২ সালেই বিলুপ্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ফলে ঐ সুবিধা ব্যবহার করে আনা গাড়িগুলো এখন অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
দেখা গেছে, এই সুযোগ নিয়ে অনেকেই নামী ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি আনার পর কয়েক মাস দেশে কাটিয়ে সেই গাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে গেছেন। আর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব গাড়ি কেনা-বেচায় জড়িত আছে একটি চক্র।
মঈনুল খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে ২৯৭২ সিসি মিৎসুবিশি পাজোরো স্পোর্ট, ৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের পাতন গ্রাম থেকে নিশান-৩০০ জেডএক্স এবং ২২ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরের লন্ডনি রোড থেকে একটি জাগুয়ার গাড়ি আটক করে।
তিনি বলেন, এ গাড়ি তিনটিতে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তবে গাড়ির মালিকদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা চাইলে শুল্ক পরিশোধ করে গাড়িগুলো নিয়ে যেতে পারবেন।
শুল্ক না দিলে মালিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মহাপরিচালক জানান।
গাড়ি আটক সংক্রান্ত বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক প্রভাত কুমার জানান, গাড়িগুলোর মধ্যে একটি মৌলভীবাজারের গ্যারেজের মালিক ব্যবহার করতেন। তবে, গাড়িগুলোর আনুমানিক মূল্য কত সে বিষয়ে তিনি কোন ধারণা দিতে পারেননি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া তিনটি গাড়িই কারনেটের আওতায় আনা গাড়ি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
