Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / হাসান হাফিজুর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

হাসান হাফিজুর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক হাসান হাফিজুর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল মস্কো সেন্ট্রাল ক্লিনিকাল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

প্রাবন্ধিক, গল্পকার, সম্পাদক, সংগঠক, অধ্যাপক, সাংবাদিক, কূটনীতিক ও গবেষক হিসেবে কর্মজীবন ব্যয়িত হলেও তার ব্যক্তিত্বের যথার্থ প্রকাশ ঘটেছে কবিতায়।

মুক্তিযুদ্ধের দলিল সম্পাদনার জন্য বিখ্যাত হাসান হাফিজুর রহমান। ১৯৩২ সালে ১৪ জুন জামালপুর জেলায় তার নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন হাসান হাফিজুর রহমান। তার পৈত্রিক বাড়ি ছিল জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার কুলকান্দি গ্রামে। বাবা আবদুর রহমান এবং মা হাফিজা খাতুন।

১৯৩৮ সালে ঢাকার নবকুমার স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সরাসরি তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন হাসান হাফিজুর রহমান। ১৯৪৬ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। ১৯৪৮ সালে হাসান হাফিজুর রহমান ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।

১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস কোর্স-এ বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন হাসান হাফিজুর রহমান। ১৯৫৮ সালের ১৭ এপ্রিল হাসান হাফিজুর রহমান সাঈদা হাসানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

হাসান হাফিজুর রহমানের পেশাজীবন খুব বৈচিত্রময় ছিল। সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় ১৯৫২ সালে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি একাধারে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-৫৪) ও দৈনিক পাকিস্তান (১৯৬৫) এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলায় সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি নিযুক্ত হন হাসান হাফিজুর রহমান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ১৯৫৭-১৯৬৪ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ১৯৭৩ সালে মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস কাউন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন হাসান হাফিজুর রহমান।

১৯৪৬ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের লেখা ছোট গল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলাতে’ প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকায়। এর দুই বছর পর সোনার বাংলায় তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অবদান রাখেন। একুশের চেতনার উপর ভিত্তি করে তার কবিতা অমর একুশে প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালেই। এটিসহ আরও কিছু লেখা একত্র করে ১৯৫৩ সালে তিনি তার প্রথম বই একুশে ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান বেশি পরিচিত তার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ১৬ খণ্ডের দলিলপত্রের (১৯৮২-৮৩) জন্য। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে-বিমুখ প্রান্তর (১৯৬৩), আর্ত শব্দাবলী (১৯৬৮), আধুনিক কবি ও কবিতা (১৯৬৫), মূল্যবোধের জন্যে (১৯৭০), অন্তিম শরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারী, প্রতিবিম্ব (১৯৭৬), আরো দুটি মৃত্যু (১৯৭০) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাংলা ভাষায় হোমারের ওডিসি অনুবাদও করেছেন তিনি।

তার প্রাপ্ত পুরস্কার ও পদকের মধ্যে রয়েছে- পাকিস্তান লেখক সংঘ পুরস্কার (১৯৬৭), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৭), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭১), সুফি, মোতাহার হোসেন স্মারক পুরস্কার (১৯৭৬), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), সওগাত সাহিত্য পুরস্কার ও নাসিরুদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৮২), মরোনোত্তর একুশে পদক (১৯৮৪)।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...