এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মধ্যাহ্নবিরতির আগে ৩০৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। আগের দিন ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান করে টাইগাররা। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশকে মজবুত ভিত এনে দেয়ার লক্ষ্যে ক্রিজে নামেন। চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের জন্য মুশফিকের দিকেই তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
তবে দিনের শুরুতে টেস্ট অধিনায়ক আউট হওয়ায় হতাশ হতে হয় টাইগারদের। মুশফিকের বিদায়ের পর দারুণ জুটি গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাসির। তবে পরপর এই দুজনের বিদায়ে চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩০৫ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
মুশফিক ৬২ এবং নাসির হোসেন ১৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন। আগের দিনের সঙ্গে আরো চার রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৬৬ রানে আউট হন মুশফিক। নাসির করেন ৪৫ রান।
আগের দিন সাব্বির আউট হয়েছেন ৬৬ রান করে; টেস্টে এটাই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। সৌম্য সরকার ৩৩, মুমিনুল হক ৩১ এবং সাকিব করেন ২৪ রান। তামিম ইকবাল ৯ এবং ইমরুল কায়েস ৪ রান করে আউট হন।
ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো দলের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলা নাথান লায়ন যথারীতি অস্ট্রেলিয়ান বোলিং অ্যাটাকের নায়ক। ৯৪ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট নেন এই অজি স্পিনার। এই নিয়ে টানা তিন টেস্টে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন লায়ন। অ্যাস্টন অ্যাগার নেন দুটি উইকেট।
সকালের সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই সাবধানী ছিলেন মুশফিক ও নাসির। জুটি ভাঙতে না পেরে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ দলের সেরা বোলার লায়নকে আক্রমণে আনেন। দ্বিতীয় দিন প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই সফলতা পান এই অজি স্পিনার। তার করা ৯৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন মুশফিক।

সকালের সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই সাবধানী ছিলেন মুশফিক ও নাসির। জুটি ভাঙতে না পেরে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ দলের সেরা বোলার লায়নকে আক্রমণে আনেন। দ্বিতীয় দিন প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই সফলতা পান এই অজি স্পিনার। তার করা ৯৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন মুশফিক।
মুশফিকের বিদায়ের পর দারুণ জুটি গড়ে মিরাজ ও নাসির। তবে দলীয় ২৯২ রানের মাথায় অ্যাগারের করা ১১১তম ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ম্যাথু ওয়েডকে ক্যাচ দিয়ে নাসির ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। এরপর আর সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। পরপর মিরাজ ও তাইজুল আউট হলে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। মিরাজ রানআউটের শিকার হন। অন্যদিকে তাইজুলকে (৯) ফেরান লায়ন।
গতকাল সোমবার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুশফিক। ১১৭ রানে নেই ৫ উইকেট। এমন বিপর্যয়ের মুখে সেঞ্চুরি জুটি গড়েন সাব্বির ও মুশফিক। এই দুজনের মধ্যকার ১০৫ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।
গতকাল সোমবার প্রথম দিনের শেষ ঘণ্টায় হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ৮২তম ওভারে বাংলাদেশ শিবিরকে ধাক্কা দেন নাথান লায়ন। তার করা ওভারের দ্বিতীয় বলে পুল করতে গিয়ে পায়ের ব্যালান্স রাখতে পারেননি সাব্বির। পা ‘চুল ব্যবধানে’ শূন্যে থাকা অবস্থায় সাব্বিরকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন ম্যাথু ওয়েড।
দিনের শেষ বেলায় উইকেট হারানোর পুরনো অভ্যাস রয়েছে বাংলাদেশের। সাব্বিরের বিদায়ে তাই টাইগার সমর্থকরা চিন্তায় ছিলেন। তবে নাসির ও মুশফিক ৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে নিরাপদেই মাঠ ছাড়লে শক্ত ভিত পায় বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার ৩০০ রানের কোটা পার হওয়া বাংলাদেশের বোলাররা কতটুকু লড়াই করতে পারেন সেটাই দেখার বিষয়।
মিরপুর টেস্টে নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চ শেষে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে পরাজিত করে বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণেই চট্টগ্রামে মানসিকভাবে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি সিরিজ হার এড়ানোর পাশাপাশি হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশন।
বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাসির হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ : ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, হিলটন কার্টরাইট, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাস্টন অ্যাগার, স্টিভ ও’কিফ, প্যাট কামিন্স ও নাথায় লায়ন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ১১৩.২ ওভারে ৩০৫ (তামিম ৯, সৌম্য ৩৩, ইমরুল ৪, মুমিনুল ৩১, সাকিব ২৪, মুশফিক ৬৮, সাব্বির ৬৬, নাসির ৪৫, মিরাজ ১১, তাইজুল ৯, মুস্তাফিজ ০* (কামিন্স ০/৪৬, লায়ন ৭/৯৪, ও’কিফ ০/৭৯, অ্যাগার ২/৫২, ম্যাক্সওয়েল ০/১৩, কার্টরাইট ০/১৬)
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

