Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন হাওর অঞ্চলের যুবকরা
হাওর অঞ্চলের যুবকরা

মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন হাওর অঞ্চলের যুবকরা

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক : বাণিজ্যিক ভাবে মাছচাষ করে সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের এলাকার যুবকরা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন। মাছ উৎপাদন, আহরণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ কাজে শত শত বেকার যুবকের সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের। পাশাপাশি আমিষের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। হাওর পাড়ের অর্থনৈতিক এই বেহাল দৃশ্যপট এখন পাল্টে গেছে।

জানাযায়,যুগ যুগ ধরে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বোরো ফসলি জমির ওপর নির্ভর করেই কোনো রকমে চলতো প্রত্যন্ত হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা। বছরে একবার বোরো ধান চাষ করেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানীর কারণে প্রতিবছর লোকসান গুণতে হতো তাঁদের। ঘরে ঘরে দারিদ্র্যতা ও বেকারত্ব লেগেই থাকতো। কর্মসংস্থানের অভাবে দলে দলে গ্রামের বেকার যুবকরা ঢাকামুখী হতেন কিংবা বিদেশ পাড়ি জমাতেন। তবুও কাটতো না এখনকার অর্থনৈতিক দুরাবস্থা।

এখন মাছচাষ ও ব্যবসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মৎস্যখামারী ইতিমধ্যে একাধিকবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষীর স্বীকৃতি ও সম্মাননা পেয়েছেন।উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর ছাড়াও নূরপুর, টেংরাটিলা, বৈঠাখাই, সোনাপুর ও নন্দীগ্রামে কনছখাই এবং কানলার হাওরপাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত বানিজ্যক মাছ চাষের পুকুর।

এসব পুকুরে চাষ হচ্ছে পাঙাশ, তেলাপিয়া, কাতলাসহ সকল প্রকার বিদেশী জাতের কার্প জাতীয় মাছ। গ্রামের প্রধান সড়ক ও হাওরের পাশে একের পর এক পুকুর দেখে মনে হয় প্রতিটি গ্রাম যেন পুকুরে ঘেরা। আরও জানাযায়,উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের যুবক সোহেল আহমদ অর্থনৈতিক টানাপোড়নে কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়।

সেখানে প্রায় এক দশক প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে বিদেশের চাকুরী ছেড়ে এলাকায় এসে গ্রামে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেও ভাগ্যের চাকা পাল্টায়নি তাঁর। পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করেন বানিজ্যক ভাবে মাছ চাষ। বর্তমানে তার ৩০০ শতাংশ জমির একটি বিশাল পুকুরসহ ছোট্ট বড় আরও ৪-৫টি পুকুর রয়েছে। এখানে মাছ চাষ করে প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা লাভবান হচ্ছেন তিনি।

শুধু প্রবাস ফেরত যুবক সোহেল আহমদ একাই নয়, তাঁরমতো আলীপুর গ্রামের সিরাজ মিয়া, হাবীবুর রহমান, আব্দুস শহীদ, সজীব মিয়াসহ আশপাশের গ্রামের বেকার যুবকরা এখন মাছচাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। শুধু সরকারি চাকরি আর বিদেশগামী না হয়ে দেশের প্রতিটি এলাকার যুবকদের প্রত্যেকের নিজ এলাকায় আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করা উচিত মনে করেন,সোহেল আহমদ।

তিনি বলেন, প্রবাসে যেই সময় ব্যয় করেছি দেশে তাঁর চেয়ে কম সময় ব্যয় করেও এখন অধিক উপার্জন করছি। বানিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করে আমি লাভবান। দেশে এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে আছি। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাছচাষের খামারকে আরও সম্প্রসারণ করা।

হাওরপাড়ের এই প্রত্যন্ত এলাকা হবে দেশের মাছ উৎপাদনের রোল মডেল হবে বলে জানান, আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী সম্মাননা প্রাপ্ত আব্দুর রহিম ও নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ ও সহজে ঋণ প্রাপ্তি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে হাওরপাড়ে মৎস্য বিপ্লব ঘটবে।

হাওরপাড়ে বানিজ্যিক ভাবে মাছচাষের পুকুরের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে বলে জানান,দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্যকর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মন। তিনি বলেন,উপজেলায় ৪৬৬৬টি মাছ চাষের পুকুর রয়েছে। সেখানকার আবহাওয়া ও মাটি মাছচাষ উপযোগী,যে কারণে সেখানে মাছের উৎপাদন হয় ভালো। আমরা মাছ চাষীদেরকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সকল ধরনের পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি।

x

Check Also

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ...