Don't Miss
Home / জাতীয় / শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন, বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৯ এপ্রিল

শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন, বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৯ এপ্রিল

এমএনএ প্রতিবেদক

আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিকেলে দুটি আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-৩ আসনে পুনঃতফসিল এবং বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রবাসী ভোটার এবং দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের এক বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করে ইসি।

বগুড়া-৬: উপ-নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা

সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুই আসনেই জয়ী হন তারেক রহমান। সংবিধান অনুযায়ী একাধিক আসনে সংসদ সদস্য থাকা সম্ভব না হওয়ায় তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সেখানে উপ-নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় ইসি।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো-এর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নামও আলোচনায় রয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দলীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই চেয়ারম্যান আসনটি ছেড়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনো এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বগুড়া-৬ আসনটি অতীতে একাধিকবার উপ-নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তবে শপথ না নেওয়ায় ২০১৯ সালের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপ-নির্বাচন। ফলে বগুড়া-৬ আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোটারদের প্রত্যাশা

বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা যায়, ভোটাররা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাখাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান। স্থানীয়দের মতে, শুধু পরিচিত নাম নয়—এবার এমন প্রতিনিধি প্রয়োজন, যিনি এলাকায় থেকে বাস্তব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবেন।

সবমিলিয়ে, বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচন এখন শুধু একটি শূন্য আসন পূরণের বিষয় নয়; বরং তা জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ বিন্যাসের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

x

Check Also

বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যখন কাজ শুরু করেছি, তখন নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া প্রতিনিধি বগুড়া জেলা গত ২০ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। এখন এই বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে ...