বিশেষ প্রতিনিধি
নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে মাসিক সম্মানী পেতে শুরু করবেন। একইসঙ্গে অন্যান্য ধর্মের নির্বাচিত উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতারাও এই উদ্যোগের আওতায় আসবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য সুবিধা প্রবর্তনে গঠিত বিশেষ সেলের চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেলের এক সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
এ সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, ধর্ম বিষয়ক সচিব মুনশী আলাউদ্দিন আল আজাদ, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ সেলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, সব ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল।
তিনি জানান, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে মোট ৪,৯০৮টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে—প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে মন্দির নির্বাচন করা হয়েছে, মোট সংখ্যা ৯৯০।
যেসব ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার রয়েছে, সেখান থেকে দুটি করে মোট ১৪৪টি বিহার নির্বাচন করা হয়েছে। একইভাবে ১৯৮টি উপজেলায় অবস্থিত গির্জা থেকে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত মসজিদের ইমামরা মাসে ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিনরা ৩,০০০ টাকা এবং খাদেমরা ২,০০০ টাকা সম্মানী পাবেন। নির্বাচিত মন্দিরের পুরোহিতরা মাসে ৫,০০০ টাকা এবং সেবাইতরা ৩,০০০ টাকা পাবেন।
একইভাবে বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষরা মাসে ৫,০০০ টাকা এবং সহকারী অধ্যক্ষরা ৩,০০০ টাকা পাবেন। নির্বাচিত গির্জার পাদ্রী বা যাজকরা মাসে ৫,০০০ টাকা এবং সহকারী পাদ্রী বা যাজকরা ৩,০০০ টাকা সম্মানী পাবেন।
এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১,০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের নির্বাচিত কর্মীরাও তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে ২,০০০ টাকা উৎসব ভাতা পাবেন।
মাসিক সম্মানী ব্যবস্থা স্থায়ী করতে ধর্ম বিষয়ক সচিবকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরতদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং খণ্ডকালীন বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

