Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ১৮ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, উদ্ধারে জোরদার উদ্যোগ

১৮ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, উদ্ধারে জোরদার উদ্যোগ

সংসদ প্রতিবেদক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রথমবারের মতো কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। সংসদ নেতা হিসেবে এদিন প্রথমবার প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

অবৈধ অর্থপ্রবাহের চিত্র

প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে চলে গেছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

পাচারের গন্তব্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

পাচার হওয়া অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং

এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং-চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সইয়ের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

অর্থপাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে; দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নেতৃত্বে যৌথ তদন্ত দল গঠন করেছে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা সংযুক্ত করা হয়েছে।

সম্পদ জব্দের অগ্রগতি

প্রধানমন্ত্রী জানান, আদালতের নির্দেশে— দেশে প্রায় ৫৭,১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক; বিদেশে প্রায় ১৩,২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধসহ সর্বমোট প্রায় ৭০,৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

মামলার অবস্থা

অর্থ পুনরুদ্ধারে এখন পর্যন্ত: ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, এরমধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল ও ৬টির রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“আইনের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। দেশের প্রচলিত আইন মেনেই বিচার ও অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া চলবে।”

তিনি আরও বলেন, পাচারকারীদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। অতীতের মতো জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের সংস্কৃতি পরিহার করে আইনি কাঠামোর মধ্যেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জনগণের অর্থ ফেরানোর অঙ্গীকার

সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি জনগণের অর্থ। জনগণের কল্যাণে তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যে পদক্ষেপ প্রয়োজন, সরকার তা নেবে।”

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, অতীতের অর্থপাচার ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

x

Check Also

ঈদযাত্রায় সড়কে মৃত্যুমিছিল: ১৫ দিনে ২৯৮ প্রাণহানি, চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা

এমএনএ প্রতিবেদক ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশের সড়কপথে আবারও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ...