এমএনএ প্রতিবেদক
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি/২৪ ঘণ্টা) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিভারী বর্ষণের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে দেশের নদীবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
রোববার সকাল থেকে পটুয়াখালীর সদর, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, গলাচিপাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে।
পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা সাকিব মৃধা জানান, ফজরের পর থেকেই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে জরুরি প্রয়োজনেও ঘরের বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরের এফবি থ্রি স্টার ট্রলারের মাঝি শামসুদ্দিন বলেন, সাগরে প্রবল ঢেউ ও ঝড়ো বাতাসের কারণে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খাপরাভাঙ্গা নদীতে ফিরে এসেছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল মেঘনা নদীর কারণে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে ফেরিসহ সব ধরনের সরকারি নৌযান চলাচল রোববার সকাল থেকে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় নলচিরা ও চেয়ারম্যানঘাটে শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কোনো ফেরি, সি-ট্রাক, স্পিডবোট বা যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল করেনি।
ফেরি ‘মহানন্দা’-এর মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির পর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় চলাচল শুরু হবে।
হাতিয়া উপকূলীয় নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ভোর থেকেই নদী উত্তাল রয়েছে এবং জোয়ারের উচ্চতাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
