দেশে গণতান্ত্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য সবার অংশগ্রহণ জরুরি। আর তা ইসিকেই নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী ২২ মার্চ থেকে অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কয়েক ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
বিভিন্ন সময়ে আমরা লক্ষ্য করেছি, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের সময় কমবেশি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। সেসব বিবেচনায় রেখে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এটাই প্রত্যাশিত। ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমা দিতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যেসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, গতকাল মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত তা হয়েছে।
যেহেতু এবারের ইউপি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন নিয়ে প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেহেতু এ নির্বাচনের দিকে দেশের সব মানুষের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

এবারের ইউপি নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে সর্বসাধারণের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনেই যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি আহত হয়েছে, এ প্রেক্ষাপটে ইউপি নির্বাচনের পরবর্তী ধাপের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে কী ধরনের সংঘাত হবে এ নিয়ে দেশবাসীর উদ্বেগ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
নির্বাচনকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পরও অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের সময় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এবারের ইউপি নির্বাচনের সময় যাতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির কোনো রকম অবনতি না ঘটে সেদিকে ইসি ও প্রশাসনকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। অতীতে ইউপি নির্বাচন ছিল দলীয় পরিচয়মুক্ত। এতে প্রান্তিক পর্যায় থেকে নেতৃত্বে আসার ব্যাপক সুযোগ ছিল। যেহেতু এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রভাব বাড়বে, এ প্রেক্ষাপটে স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত প্রার্থীরা নির্বাচনের সময় যাতে কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয় এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন।
ইউপি নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক হয়, নির্বাচন কমিশনকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির কোনো রকম অবনতি হলে কিংবা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে ওই ঘটনা আগামীতে জাতীয় রাজনীতিতে নানা রকম প্রভাব ফেলতে পারে। কাজেই ২২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইউপি নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় সেদিকে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এতে পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হবে।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

