এমএনএ রিপোর্ট : দেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের (সিটিসেল) কাছে বিটিআরসির পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে দুই কিস্তিতে পরিশোধের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রথম এক মাসের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ এবং পরের কিস্তিতে এক-তৃতীয়াংশ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সিটিসেলের কাছে পাওনা মূল টাকার ৩ ভাগের ২ ভাগ প্রথম মাসে এবং পরবর্তী দু’মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এ সময়ে মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত ২২ আগস্ট বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ বিটিআরসির পক্ষ থেকে সিটিসেলকে দেয়া শোকজ নোটিশের সময় পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
আদালতে বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস ও খন্দকার রেজা-ই রাকিব, সিটিসেলেরে পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ, রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে দুই লাখের নিচে নেমে এসেছে। টু-জি তরঙ্গ ফি, বার্ষিক লাইসেন্স ফি, বার্ষিক তরঙ্গ ফি, রেভিনিউ শেয়ারিংসহ বিভিন্ন খাতে সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
বিটিআরসির পক্ষের আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই রাকিব জানান, টাকা পরিশোধ করলে সিটিসেল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে আপিল বিভাগ বিটিআরসির আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। ১৭ অগাস্টের আগ পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। এর দুই তৃতীয়াংশ এখন থেকে এক মাসের মধ্যে, আর এক তৃতীয়াংশ পরবর্তী এক মাসে পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া ১৭ অগাস্টের পর থেকে প্রতিদিন বিটিআরসি আরও ১৮ লাখ টাকা করে পাওনা হচ্ছে। প্রতিদিনের এই টাকা অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে, টাকা না পেলে বিটিআরসি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই টাকা পরিশোধ করলে সিটিসেল কার্যক্রম চালাতে পারবে। তা না হলে
বিটিআরসিকে যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আপিল বিভাগ।
এর আগে ২২ আগস্ট ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করতে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের হাইকোর্টের একক কোম্পানি বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন।
৪৭৭ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় সম্প্রতি সিটিসেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরে তাদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়ায় ২৩ আগস্ট কোম্পানিটি বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। বিটিআরসির সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিটিসেল হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিল সিটিসেল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার এই আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
এর আগে গত বছর সিটিসেলের অন্যতম অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তাদের ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার মার্কিন ডলারের পাওনার জন্য একটি মামলা করে। সেই মামলার শুনানিকালে ১৭ আগস্ট হাইকোর্টের একই বেঞ্চে সিটিসেলের কাছে পাওনা ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা দাবি করে বিটিআরসি। ওই মামলায় ৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল ১৯৮৯ সালে তৎকালীন বিটিটিবি-এর কাছ থেকে লাইসেন্স পায়। তখন এর নাম ছিল বিটিএল। পরে ১৯৯২ সালে সিটিসেল নামে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও এর কার্যক্রম ছিল শুধুমাত্র ঢাকার মধ্যেই। ১৯৯৭ সালে ‘গ্রামীণফোন’ যাত্রা শুরু করলে সিটিসেল প্রথম ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে যায়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
