রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের সমন্বয়ের চেষ্টা করব : প্রধান বিচারপতি
Posted by: News Desk
February 4, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ—রাষ্ট্রের এ তিন অঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কেবল একটি দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে। যেখানে তিন এই অঙ্গের মধ্যে কাজের সমন্বয়ের অভাব থাকে, সেখানে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিন অঙ্গের কাজের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করা যায়, সে জন্য আমি সব সময় চেষ্টা করব।’
গতকাল শনিবার নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আজ রবিবার সকালে প্রথা অনুসারে তাঁকে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সেখানেই এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির এজলাস কক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে দেশে দৃঢ়ভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু আমার পক্ষে করা সম্ভব, তার সবটুকুই আমি করবো।’
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বিচার বিভাগের অগ্রসরতার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, আমি তার সবকিছু করার চেষ্টা করব। বিচার বিভাগের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিচারকদের দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দেশে একটি ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি প্রতিষ্ঠা, মামলা অনুপাতে বিচারকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আমার প্রাথমিক লক্ষ্য। সকল স্তরের বিচারকেরা যেন তাঁদের এজলাস সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেন, আমি সেটি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৯৫ (২) (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগের আইন প্রণয়ন অপরিহার্য।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট যেন সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর নিজ দায়িত্ব পালন করেন, সেটিও আমি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব। আমাদের এমনভাবে আদালতের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে যেন আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শক্তিমান-দুর্বল, ধনী-গরিব, সকলের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মে যে তাঁরা সকলেই সমান। এবং আদালতের কাছ থেকে শুধু আইন অনুযায়ী তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন। এতে আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস দৃঢ় হবে।’
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, বিচারকদের সবচেয়ে বড় শক্তি সততা। তাঁর জবাবদিহির জায়গা হচ্ছে নিজের বিবেক। সংবিধান ও দেশের আইন তাঁর একমাত্র অনুসরণীয়। শপথকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে কারও প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে তাঁর দায়িত্ব। বিচারক যদি শুধু তাঁর শপথ অনুযায়ী বিচারকাজ পরিচালনা করেন, তাহলে তাঁর জন্য আলাদা অনুসরণীয় আচরণবিধির তেমন প্রয়োজন হয় না।
বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি আশা করব, আমার সহকর্মী সকল বিচারক সব সময় তাঁদের শপথের মূল বাণী হৃদয়ে প্রোথিত করে জনগণ ও মানবতার কল্যাণে সংবিধানকে সামনে রেখে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন। আবার শুধু বিচার করলেই হবে না, এমনভাবে বিচার করতে হবে যেন সকল পক্ষই নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে সুষ্ঠু ও নিশ্চিতভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
বিচারে ডিজিটাল প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার ব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু এবং ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি করে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের পথে অগ্রসর হতে হবে। ডিজিটালাইজেশনের জন্য যে পরিবর্তন হবে বারকেও সেটা স্বাগত জানাতে হবে এবং তার বিরোধীতা না করে তার সঙ্গে অভ্যস্থ হতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের নিরন্তর সহযোগিতাও একান্তভাবে কাম্য।
‘মামলা জট আজকে আমাদের বড় সমস্যা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হবে বারের সক্রিয় সহযোগিতা।
তিনি আরও বলেন, মামলা জট আজ শুধু আদালতের একার সমস্যা নয়, এটি বারের জন্যও অস্বস্থির কারণ। মামলার পাহাড় যত জমতে থাকবে, আদালতের সঙ্গে সঙ্গে বারের প্রতিও তেমনি বিচার প্রার্থী মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা কমতে থাকবে। এই সমস্যা সমাধানে বারকেও এগিয়ে আসতে হবে।
করব তিন চেষ্টা প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রের অঙ্গের সমন্বয়ের 2018-02-04