এমএনএ রিপোর্ট : গুপ্তহত্যাসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতেই হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে বিএনপি। হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব তথ্য থাকলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের কেন বিচার হচ্ছে না—এ প্রশ্নও তুলেছে দলটি।
গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে গুপ্তহত্যার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে দুটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট (সরকারপ্রধান) হিসেবে তাঁর কাছে এ বিষয়ে সব তথ্য আছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এক দিন পর আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিক্রিয়া জানায় বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে গুপ্তহত্যার ঘটনাগুলোতে সরকারের সংশ্লিষ্টতার পাল্টা অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতেই হয়েছে। হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের এখনো খুঁজে বের করতে পারেনি সরকার।
অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্য দিবালোকে হয়েছে। এ ধরনের নারকীয় ঘটনার ন্যূনতম হদিস বের করতে না পেরে চরম হতাশ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন।
মহাসচিব আরও বলেন, নিখুঁতভাবে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীদের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিত না থাকলে কোনোভাবে সম্ভব হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা অনৈতিক, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ও উদ্দেশ্যমূলক।
হত্যাকারীদের শনাক্ত না করে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপিয়ে ফায়দা হাসিল করাই ক্ষমতাসীনদের মূল উদ্দেশ্য।
হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব তথ্য থাকলে তিনি নাটোরের উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন বাবু, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কোনো তথ্য পেলেন না কেন?
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দলের ওপর উদ্দেশ্যমূলকভাবে দোষ চাপালে বিষয়গুলো অন্য দিকে চলে যাবে। আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে, তাদের সেভাবে কখনোই চিহ্নিত করতে দেখা যায়নি। তারাই যে প্রকৃত হত্যাকারী বা ঘটনার জন্য দায়ী, তা জানা যায়নি।
তিনি বলেন, এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনগুলোয় তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) কিছু লিখিত বক্তব্য থাকে, সেটাই তিনি আওড়ে যান। গতকাল তিনি সেটাই পাঠ করেছেন। বিরোধী দল বিএনপিকে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত করার উদ্দেশ্য কী?
উদ্দেশ্য একটাই—বিএনপি উদারপন্থী, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে সফল হয়েছে এবং গণতন্ত্রের জন্য এখনো সংগ্রাম করে চলেছে। তাই বিএনপিকে যেভাবেই হোক নির্মূল করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে তারা প্রথম থেকেই কাজ করে আসছে।
সরকার একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে। সরকার জোর করে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে সংসদ গঠন করেছে। সেই সংসদের কোনো জবাবদিহি নেই। ৫ শতাংশ লোকও সেই ভোটে অংশগ্রহণ করেননি।
তারা (সরকার) জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেই পরবর্তী সময়ে প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তারা তাদের প্রার্থীকে জয়ী করে নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক মহলসহ সচেতন মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর কৌশল নিয়েছেন—উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, এখন যখন সমগ্র পৃথিবী এই বিষয়গুলোর ওপর নজর দিয়েছে, যখন তারা বাংলাদেশে এসে গুপ্তহত্যা, সহিংসতা, জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে কথা বলছে, সোচ্চার হচ্ছে, দেশের মানুষ যখন সোচ্চার হচ্ছে, তখন আবার একইভাবে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জনগণের ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য বিএনপিকেই দোষ চাপাচ্ছেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

