বিশেষ প্রতিনিধি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন কমিশনের দুই সদস্য—মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহ্সান ফরিদ। দুদকের পদত্যাগকারী একজন কমিশনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেসময়ই তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
২০০৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তৎকালীন চুক্তিভিত্তিক স্বরাষ্ট্র সচিব ড. আবদুল মোমেনকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন সরকারের প্রশাসন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা পদত্যাগ করলেন বলে জানা গেছে।
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান রাষ্ট্রপতির আদেশে, অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগে সরকারি প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করেন। তাঁর মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর বা নির্ধারিত বয়সসীমা পর্যন্ত।
কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজীও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা হিসেবে কমিশনে যোগ দেন। অন্যদিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ সামরিক বাহিনীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁদের প্রত্যেকের নিয়োগই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছিল।
তাঁদের দায়িত্বকালে দুদক বেশ কয়েকটি আলোচিত দুর্নীতি অনুসন্ধান ও মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিশন সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তবে বিভিন্ন সময় কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও ছিল।
দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের ফলে কমিশনের নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হলো। আইন অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য পুনরায় অনুসন্ধান কমিটি গঠন এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
