Don't Miss
Home / অর্থনীতি / বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

গভর্নর বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ও ব্যাংকিং খাত যৌথভাবে এই তহবিল গঠন করেছে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে। এই অর্থের মাধ্যমে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক খাতে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, এই তহবিলের আওতায় ঋণের সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। এর মধ্যে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে, যাতে উদ্যোক্তারা কম খরচে ঋণ পেতে পারেন। তিনি বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্যই সরকার সুদ ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ। পাশাপাশি কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই), পরিবেশবান্ধব শিল্প এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও ঋণ দেওয়া হবে।

গভর্নর বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি আয় বাড়বে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা ও নতুন ব্যবসা উদ্যোগও এই তহবিলের মাধ্যমে সহায়তা পাবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, “দেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার বা চুরি হয়ে গেছে। ব্যাংক খাতের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত সম্পদও নেই।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং দুর্বল তদারকির কারণে দেশের আর্থিক খাত চাপে রয়েছে। তবে নতুন এই তহবিল অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

x

Check Also

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

এমএনএ প্রতিবেদক উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ...