বিশেষ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কার্যত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংস্থাটিকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংকটের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত স্টোরেজের অভাব এবং অপরিশোধিত তেল আমদানিতে অনিশ্চয়তা। ফলে বাধ্য হয়ে পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে হচ্ছে স্পট মার্কেট থেকে, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এদিকে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে; কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। পাম্প মালিকদের সংগঠন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পাম্প বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মতো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানা গেছে। এই সংকট কাটাতে বিপিসি ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, কয়েক দফায় মোট ১৮ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এমনকি সংকট সামাল দিতে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের, বেশি সালফারযুক্ত ডিজেলও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দিনরাত কাজ করছেন যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত না হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহকারীদের ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা এবং পরিবহন জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এর ওপর কোনো বাধা সৃষ্টি হলেই বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা কিছু তেলের চালান ইতোমধ্যে বিলম্বিত হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ মালিকরাও ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী। ফলে নির্ধারিত সময়েও অনেক চালান পৌঁছাতে পারছে না।
অন্যদিকে দেশে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কায় পরিবহন খাত, ডিলার এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মজুত প্রবণতা বেড়েছে। এতে হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়ে গিয়ে মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ চাপ—দুইয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
