Don't Miss
Home / প্রচ্ছদ / রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট: ২৭ অস্থায়ী হাটের মধ্যে ১৯টির ইজারা সম্পন্ন, বাকি ৮টিতে পুনঃদরপত্র

রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট: ২৭ অস্থায়ী হাটের মধ্যে ১৯টির ইজারা সম্পন্ন, বাকি ৮টিতে পুনঃদরপত্র

বিশেষ প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আযহা সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে কোরবানির পশুর হাট প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে ঢাকায় ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাকি আটটি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়া কিংবা দরপত্র জমা না পড়ায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এবার দেশে আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচদিন রাজধানীর এসব হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা চলবে। অস্থায়ী হাটগুলোর পাশাপাশি ঢাকার দুই স্থায়ী পশুর হাট— গাবতলী পশুর হাট এবং সারুলিয়া পশুর হাট — এবারও চালু থাকবে।

ডিএনসিসিতে সর্বোচ্চ দর উত্তরা দিয়াবাড়ির হাটে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গত ৯ এপ্রিল ১২টি এবং ২৮ এপ্রিল আরও চারটি হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার হাটে। এই হাটের ইজারা পেয়েছেন এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন। দর উঠেছে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় যেসব হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংসংলগ্ন খালি জায়গা — ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা; মিরপুর কালশী বালুর মাঠসংলগ্ন এলাকা — ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা; ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন এলাকা — ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা; পূর্ব হাজীপাড়া ইকরা মাদরাসাসংলগ্ন এলাকা — ১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা; কাঁচপুরা বাজারসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকা — ২৭ লাখ টাকা; খিলক্ষেত মস্তুল চেকপোস্টসংলগ্ন পশ্চিমপাড়া — ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা; বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকা — ১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা; বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজ এলাকা — ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ও বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গা — ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তবে ছয়টি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় পুনঃদরপত্র চলছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের জায়গা, মেরুল বাড্ডা, বছিলা, সুতিভোলা খালসংলগ্ন এলাকা, উত্তরা রানারভোলা অ্যাভিনিউ এলাকা এবং মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠ।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, “যে ১০টি হাটে সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি হাটে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দর পেলে সেগুলোরও ইজারা সম্পন্ন করা হবে।”

ডিএসসির হাটে সর্বোচ্চ দর কাজলা-মাতুয়াইল এলাকায়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত ১৬ এপ্রিল ১১টি পশুর হাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত নয়টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প পর্যন্ত বিস্তৃত হাটে। এ হাটের ইজারা পেয়েছে কে বি ট্রেড। দর উঠেছে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এছাড়া আরও যেসব হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে— পোস্টগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় — ৪ কোটি ১ লাখ টাকা; উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব এলাকা — ৩ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা; আমুলিয়া মডেল টাউন — ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা; শিকদার মেডিকেলসংলগ্ন এলাকা — ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা; গ্রিন বনশ্রী হাউজিং এলাকা — ৭০ লাখ টাকা; ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবসংলগ্ন এলাকা — ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা; গোলাপবাগ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা — ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪ টাকা ও রহমতগঞ্জ ক্লাব এলাকা — ৭৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

হাটে পশু আসা শুরু, বেচাকেনা জমেনি এখনো

পোস্টগোলা হাটের ইজারাদার কাজী মাহবুব মাওলা হিমেল বলেন, “এরই মধ্যে হাটে পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন খামারিরা। বিশেষ করে কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের খামারিরা বেশি আসছেন। তবে এখনো বড় পরিসরে বেচাকেনা শুরু হয়নি।”

কাজলা-মাতুয়াইল হাটের ইজারাদার মো. শামীম খান বলেন, “হাট বসানোর প্রাথমিক কাজ শেষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারিরা ঢাকায় পশু নিয়ে আসছেন। প্রতি বছর কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এবারও সেই পরিবেশ থাকবে বলে আশা করছি।”

দুই হাট নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

ডিএসসির দুটি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো— সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা। এসব হাট পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হবে নাকি খাস আদায়ে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ডিএসসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, “এখন পর্যন্ত নয়টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে।”

x

Check Also

প্রথমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, অনুমোদন পাচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এবার প্রথমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ...