Don't Miss
Home / ব্যবসা ও বাণিজ্য / রাজধানীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, খোলা তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

রাজধানীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, খোলা তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

এমএনএ প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি আশ্বাসের পরও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। অনেক এলাকায় বোতলের তেল একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও সীমিত সরবরাহ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর এবং সেগুনবাগিচা এলাকায় খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল অনুপস্থিত। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় তারা শুধুমাত্র খোলা তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২১০ টাকায় পৌঁছেছে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল প্রায় ১৯০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির কারণেই খুচরা বাজারে এই প্রভাব পড়েছে।

এদিকে গত ১২ এপ্রিল ভোজ্যতেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে তিনি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কোনোভাবেই দাম না বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তবে বৈঠকের দুই দিনের মাথায় বাস্তব চিত্রে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক শেষে জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বানও জানান।

তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় তেল মজুত করে রেখেছেন, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।

মালিবাগের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, “আমরা কোম্পানির কাছে চাহিদা দিলেও তেল পাচ্ছি না। শুনছি দাম বাড়লে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।” একই এলাকার আরেক দোকানি বলেন, “দুই লিটারের বোতল সীমিত আছে, কিন্তু পাঁচ লিটারের বোতল কয়েকদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে।”

ভোক্তারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করা এবং বাজারে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য ঘিরে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

x

Check Also

আনসার বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা, তিন আনসার সদস্য গ্রেপ্তার

গাজীপুর প্রতিনিধি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিকে ...