এমএনএ প্রতিবেদক
আকস্মিক জলোচ্ছ্বাস ও আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছয় জেলা—নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এর কৃষকদের বোরো ধান ও চাল সংরক্ষণ এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করতে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করা হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ১৫ মে’র পরিবর্তে আগামী ৩ মে থেকেই হাওর অঞ্চলে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হবে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ধান পুরোপুরি পাকার আগেই পানিতে ডুবে গেছে, ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সংরক্ষণ সংকটও দেখা দিয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং বাজারে ধস ঠেকাতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের অন্যান্য জেলায় আগের সূচি অনুযায়ী ৩ মে থেকে ধান এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হবে। চলতি বোরো মৌসুমে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল কেনা হবে।
সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা। পাশাপাশি ৩৬ টাকা দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের সিদ্ধান্তও রয়েছে। এই সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
হাওর অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগাম বন্যার প্রবণতা বাড়ছে, যা বোরো মৌসুমের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তারা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা জোরদার এবং সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সরকারের এই আগাম সংগ্রহ উদ্যোগ কৃষকদের তাৎক্ষণিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

