আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৫ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন। সেখান থেকে তিনি ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দেন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে। ট্রাম্পের এই সফর ঘিরে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বহনকারী মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান সোমবার জেনেভা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে তিনি ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলের অবকাশনগরী ইভিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করেন, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭ (গ্রুপ অব সেভেন)-এর নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংকটের অবসানে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে নানা পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
জি-৭ নেতাদের অনেকেই আশা করছেন, ট্রাম্পের উদ্যোগে যদি কোনো সমঝোতা বাস্তব রূপ নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। কারণ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই সরু জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামরিক উত্তেজনা ও নৌ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ দেখা দেয়। তেলের দাম, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থান নেয়।
জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় ও অন্যান্য মিত্র দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করতে পারেন। এসব আলোচনায় ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর থাকবে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের বৈঠকগুলো থেকে কোনো নতুন কূটনৈতিক বার্তা আসে কি না।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
