Don't Miss
Home / আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ / ইসরায়েলের হাইফা শহরের তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, চলছে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক তৎপরতাও

ইসরায়েলের হাইফা শহরের তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, চলছে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক তৎপরতাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার ৩১তম দিনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে এবং বর্তমানে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা চালানো হচ্ছে, ফলে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে নিজেদের আকাশপথ ব্যবহার করতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারগারিতা রোবেলস জানান, আগে থেকে যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা এখন আকাশপথের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে স্পেনের আকাশপথ বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। স্পেনের অর্থনীতিমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে সমর্থন না করার নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি আড়ালে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। যদিও হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, এবং এ বিষয়ে ইরানও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চীন সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পথ সুগম করা। ইতোমধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের সঙ্গে সমন্বয়ে একটি চারপক্ষীয় উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান, যার লক্ষ্য ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা আয়োজন করা। এই উদ্যোগে চীন পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই অভিযোগ করেন, সংস্থাটি নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং হামলাকারীদের নিন্দা জানাতে গড়িমসি করছে।

এছাড়া, কুয়েতের একটি পানি শোধনাগারে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান। তাদের দাবি, ইরানের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে থাকবে।

ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এর আগেও ১৯ মার্চ একই স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সবশেষে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। ইরান জানিয়েছে, তিনি সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় আহত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যু সত্ত্বেও ইরানি নৌবাহিনী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

x

Check Also

আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, আসছে রুটভিত্তিক কোম্পানি ব্যবস্থা

এমএনএ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে ...