Don't Miss
Home / জাতীয় / অপরাধ / ব্যবসার কথা বলে একুশ লাখ টাকা প্রতারণা!

ব্যবসার কথা বলে একুশ লাখ টাকা প্রতারণা!

কৌশিক আহমেদ : শুরুতেই স্বাভাবিক সম্পর্ক। এরপর কৌশলে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বিশ্বাস অর্জন। পরবর্তীতে সে বিশ্বাসকেই পুঁজি করে ব্যবসার কথা বলে আর্থিক লেনদেন। তারপর হুমকি-ধামকিসহ নানাভাবে হয়রানি ও ক্ষতিসাধন। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা জানা যায়- রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন বড় মসজিদের পেছনের গলির বাসিন্দা সাহেরা সুলতানার মুখে।

তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসে ছিলেন। প্রবাসে থাকার সুবাদে তার কাছে মোটা অঙ্কে অর্থ রয়েছে- এমন তথ্যে বিশ্বাসের পুঁজি খাটিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ একুশ লাখ টাকা এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন করেছেন প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যবসায় খাটানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া টাকা দিবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন শাহনাজ আক্তার মিরা নামের এক নারী। এই মিরাই সুকৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাহেরার সঙ্গে। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন- এমনটা আঁচ করতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ায় সাহেরা খাতুনকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকিসহ সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত হন মিরা। মিরার হুমকিতে শঙ্কিত হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন সাহেরা। যার নম্বর- ৭৪৮।

সাহেরা সুলতানার লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, আশুলিয়া ও মিরপুরের লালকুটির বাড়িসহ ওষুধ দোকানে পুঁজি খাটানোর কথা বলে শর্ত সাপেক্ষে ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ একুশ লাখ টাকা নেন শাহনাজ আক্তার মিরা। অথচ টাকা নেওয়ার পর থেকেই নানান টালবাহানা করে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্তও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেয় মিরা। প্রতারণার আঁচ করতে পেরেই ঢাকার সিএমএম আদালতে দুটি মামলা করেন সাহেরা সুলতানা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাহেরাকে হুমকি প্রদান করেন মিরা। যে কারণে দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন সাহেরা। এতে আরও অধিক ক্ষিপ্ত হয়ে সাহেরা সুলতানার পাশের জনৈক বাড়িওয়ালা আতিক ও তার বোন রুখসানার সঙ্গে কৌশলে সখ্য গড়ে তোলেন মিরা। তাদের সমন্বয়েই নানাভাবে তাকে হয়রানির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন সাহেরা সুলতানা।

লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত মার্চ মাসের ২০ তারিখে আদালতে করা মামলার সাক্ষী দিয়ে বাসায় ফেরত আসার পথে আতিক ও তার বোন রুখসানাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর কথা বলে গুজব রটায়। এতে সামাজিকভাবে সম্মানহানি ঘটে তার। তাছাড়া আতিক, রুখসানা ও মিরা কৌশলে তার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের বের করে দেন। এতে ঘরভাড়াও নিতে পারেননি তাদের কাছ থেকে।

সাহেরা খাতুনের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, মিরাসহ সবাই পরিকল্পিতভাবে গত মার্চ মাসে তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। গত মার্চ মাসের তিন তারিখ বিকাল ৬:১৫ মিনিটে তাদের লাগানো আগুনে সাহেরার বাসায় থাকা ফ্রিজের কম্প্রেসার পুড়ে যায় এবং সে আগুন বাসার উপরের দিকে ওঠে যায়। ওই অগ্নিকান্ডে সব মিলিয়ে সাহেরার সাতটি ঘর, দুটি দোকান, অন্যান্য আসবাবপত্র ও জরুরি ডকুমেন্টসহ নগদ প্রায় ঊনত্রিশ লাখ নব্বই হাজার টাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, মিরার উসকানিতেই আতিক ও রুখসানা বিগত ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কৌশলে কোনো ভাড়াটিয়াকেই তার বাড়িতে থাকতে এবং উঠতে দিচ্ছেন না। নানাভাবে প্রভাবিত করে ভাড়াটিয়াদের তাড়িয়ে দিচ্ছেন তারা। এতে প্রতি মাসে তার ৬-৭টি ঘর প্রতি মাসেই ফাঁকা থাকছে। এতে প্রায় মাসেই আঠারো থেকে বিশ হাজার টাকা লোকসানের কবলে পড়ছেন তিনি। যা এ দু’বছর যাবত ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার লোকসান হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি আতিক ও তার বোন রুখসানাসহ শাহনাজ আক্তার মিরার বিচার চেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

এদিকে আদালতে বাদি হয়ে সাহেরা সুলতানার দায়ের করা সিআর মামলা নং-২৬৭/১৭ এর তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার ওসি তদন্ত মো. ফারুক আলম ঘটনার তদন্তে সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি তদন্ত প্রতিবদেন উল্লেখ করেন, বাদি সাহেরা খাতুনের দাখিলকৃত চুক্তিপত্র পর্যালোচনাসহ সার্বিক তদন্ত ও বাদী জিজ্ঞাসাবাদে এবং রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা গেছে, মামলার বাদি সাহেরা সুলতানার সঙ্গে বিবাদিদ্বয়ের ভালো সম্পর্ক ছিলো। ভালো ব্যবহার করেই তারা বিশ্বাস অর্জণ করে এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের কথা বলে শর্ত সাপেক্ষে বিভিন্ন সমেয় মোট ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নেয় শাহনাজ আক্তার মিরা। মাসিক লভ্যাংশের পরিমাণ সতের হাজার চারশ টাকা। অথচ শর্ত মোতাবেক লভ্যাংশ না দিয়ে শাহনাজ আক্তার মিরা টাকা না দেওয়ার লক্ষ্যে টালবাহানা শুরু করেন।

২০১৭ সালের মে মাসে সাহেরা সুলতানা শাহনাজ আক্তার মিরার কাছে টাকা ফেরত চাইলে দেই-দিচ্ছি বলে বিভিন্ন তারিখ ঘুরাতে থাকে। এ ব্যাপারে সাহেরা সুলতানা মিরাকে উদ্দেশ্য করে উকিল নোটিশ পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহনাজ আক্তার মিরা তাকে কোনো টাকা দিবে না জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। সবশেষে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, শাহনাজ আক্তার মিরার বিরুদ্ধে সাহেরা সুলতানার আনা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্য বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

x

Check Also

ডাক্তার মো. মুরাদ হাসান

সরকারের উন্নয়ন দেখে বিএনপি ঈর্ষান্বিতঃ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মো. মুরাদ হাসান

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মো. মুরাদ হাসান এমপি বলেছেন, সরকারের ব্যাপক উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত ...

Scroll Up
%d bloggers like this: