Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / মমতা কি ফিরছেন কংগ্রেসে? তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা, দিল্লির বৈঠক ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

মমতা কি ফিরছেন কংগ্রেসে? তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা, দিল্লির বৈঠক ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—তৃণমূল কংগ্রেস কি আবার কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে? ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে নিজের হাতে গড়া দল তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ে যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রায় তিন দশক পর সেই পথ কি আবার পুরোনো ঘরে ফিরতে যাচ্ছে—এমন জল্পনা এখন দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছেন। কারণ ভারতীয় রাজনীতিতে জোট, ভাঙন ও পুনর্মিলনের ইতিহাস থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের নেত্রীর জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জল্পনার সূত্রপাত মূলত দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক রাজনৈতিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করে।

তৃণমূল এতদিন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অংশ হলেও অনেক সময় নিজস্ব কৌশলে চলেছে। কিন্তু এবার মমতার সঙ্গে সোনিয়া গান্ধী-র দীর্ঘ বৈঠক এবং পরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে রাহুল গান্ধী-র বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই বৈঠকগুলো শুধু জোটের সাধারণ আলোচনা নয়; বরং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির অভ্যন্তরে অস্থিরতা বেড়েছে বলে দাবি করছে বিভিন্ন মহল।

দলের একাংশের অসন্তোষ, স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক টানাপোড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতা বা সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস মমতার জন্য জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখার একটি কৌশল হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস যদি কংগ্রেসে মিশে যায়, তাহলে উভয় দলের জন্যই কিছু সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মমতা জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় ভূমিকা পেতে পারেন এবং কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

তবে এর বড় বাধা হলো—তৃণমূল একটি ব্যক্তিনির্ভর ও আঞ্চলিক পরিচয়ের দল হিসেবে গড়ে উঠেছে। দলটির বহু নেতা-কর্মীর কাছে তৃণমূল শুধু একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং মমতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।

তৃণমূলের ভেতরের বিদ্রোহী অংশ এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে।

বিদ্রোহী নেতাদের দাবি, দলের অনেক বিধায়ক ও সাংসদ কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত মানবেন না। তাদের বক্তব্য, তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত সহজে গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৯৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসেন।

আজকের পরিস্থিতি তাই অনেকের কাছে ইতিহাসের এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তির মতো মনে হচ্ছে—যে নেত্রী একসময় কংগ্রেসের বিকল্প শক্তি তৈরি করেছিলেন, তিনিই কি আবার কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের পথে হাঁটবেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে মূল প্রশ্ন হলো—তিনি কি আঞ্চলিক দলের নেতৃত্ব ধরে রাখবেন, নাকি জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকার বিনিময়ে নতুন সমীকরণে যাবেন?

ভারতের রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তবে মমতার মতো দীর্ঘদিনের সংগ্রামী নেত্রীর জন্য তৃণমূলকে কংগ্রেসে বিলীন করার সিদ্ধান্ত হবে তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।

শেষ পর্যন্ত মমতা কোন পথ বেছে নেবেন, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের আলোচনা, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণের ওপর।

x

Check Also

সক্ষমতা

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় ...