Don't Miss
Home / সারাদেশ / মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য: মির্জাপুরে শিক্ষা কর্মকর্তা বিতর্কে, পদত্যাগী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০১৭ সাল থেকে অবৈধ বেতন উত্তোলনের অভিযোগ
টাঙ্গাইল মির্জাপুর নতুন কহেলা কলেজ, সাবেক অধ্যক্ষ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য: মির্জাপুরে শিক্ষা কর্মকর্তা বিতর্কে, পদত্যাগী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০১৭ সাল থেকে অবৈধ বেতন উত্তোলনের অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে এমপিওভূক্ত হয়ে ২০১৭ সাল থেকে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা তুলছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবস্থিত নতুন কহেলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মোঃ ফারুক। এরমধ্যে গত ২০ মাস টানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না গিয়েও তিনি সরকারি বেতন উত্তোলন করছেন। স্থানীয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দারের সহায়তায় কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করেই তিনি এ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যাচ্ছেন।

একইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অব্যাহত তাগাদা সত্বেও জাল-জালিয়াতির মাধ্যম অবৈধভাবে উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও মানছেন না ওই অধ্যক্ষ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। গত দুই বছরে সরকারের শীর্ষস্থানীয় ওই দপ্তরগুলো থেকে বারবার তাগাদা দিলেও এখনো ওই অর্থ কোষাগারে জমা হয়নি বলে জানা গেছে।

এছাড়াও আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতিষ্ঠানের গাছ কেটে বিক্রি ও অর্থ আত্মাসাৎ ও কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সাবেক অধ্যক্ষ ফারুকের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে নগদ আর্থিক সুবিধা নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অবৈধ ওই অধ্যক্ষকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে নিতে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. নাসির উদ্দিন বাবলুকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ওই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে না নিলে কলেজের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন তিনি।

এতে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ ওই কলেজ অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মো: ফারুক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মোঃ ফারুক কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

জানা যায়, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই কলেজটির সাধারণ শাখায় অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মো: ফারুক। কিন্তু ২০০৪ সালে কলেজটি কারিগরি শাখায় এমপিওভুক্ত হলে যোগ্যতা না থাকা সত্বেও কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে কারিগরি শাখায় এমপিওভুক্ত হন।

পরে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে ২০১০ সালের ৮ মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন এবং ১ এপ্রিল ঢাকার উত্তরায় উত্তরা ক্রিডেন্স কলেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চাকরি চলে যায়। পরবর্তীতে কলেজের তৎকালীন সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের কাছে পদত্যাগসহ সকল তথ্য গোপন করে কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ছুটি দেখিয়ে ছয় বছর পর ২০১৭ সালে আবারো কলেজে যোগ দেন এবং নতুন এমপিও করেন। এরপর থেকে তিনি অবৈধভাবে বেতন-ভাতা তুলছেন।

বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফারুককে স্থানীয়রা কলেজ থেকে বের করে দেন। এরপরই তিনি কলেজের যাবতীয় নথিপত্র গায়েব করে দেন। এ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে নথিপত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠিপত্র দেওয়া হলেও তিনি তা ফিরিয়ে না দিয়ে নিজ হেফাজতে রেখেছেন।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা আদালতে নথিপত্র উদ্ধারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...