Don't Miss
Home / অর্থনীতি / মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করে সব এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি বায়রার

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করে সব এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি বায়রার

এমএনএ প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্ত করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর সিন্ডিকেটবিরোধী সদস্যরা।

রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, “সিন্ডিকেট ভাঙা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাব। এই বাজারকে আর কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের দখলে যেতে দেওয়া হবে না। কেন নির্দিষ্ট ১০০টি এজেন্সি ব্যবসা করবে? আমরা সবার জন্য সমান সুযোগ চাই।”

তিনি অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ২০১৬ সাল থেকে এফডব্লিউসিএমএস নামক একটি সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে দাতো মোহাম্মদ আমিন নুর ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপনের নাম উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি, এফডব্লিউসিএমএস এবং এসপিপিএসহ বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যা অভিবাসী কর্মীদের শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ (আইওএম) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল ৪৭ হাজার টাকা এবং ২০২১ সালে ৭৯ হাজার টাকা। তবে বাস্তবে শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

মোস্তফা মাহমুদ অভিযোগ করেন, পুরোনো পদ্ধতির সমালোচনার কারণে এবার “তুরাপ” নামে নতুন একটি সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ, অর্থ লেনদেন এবং এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া “গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার” নামে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার গঠনের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

“জিরো কস্টে কর্মী প্রেরণ” স্লোগানকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে তিনি বলেন, বাস্তবে এতে শ্রমিকদের ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২৫টি এজেন্সিকে নিয়ে নতুন একটি সিন্ডিকেট গঠন করা হচ্ছে, যেখানে অন্য কোনো এজেন্সি অংশ নিতে পারবে না। সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

“একদিকে সরকারকে জিরো কস্টের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।

সরকারকে নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত হবে না।

শেষে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

x

Check Also

সক্ষমতা

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় ...