এমএনএ প্রতিবেদক
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আনতে যাচ্ছে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন। চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি বা তার আগেই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পদ অনুযায়ী নিবন্ধন: ‘ওভার সনদ’ প্রথার অবসান
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে ‘ওভার সনদ’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রার্থীকে সনদ দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন থেকে সরে আসা। নতুন নীতিতে সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ঠিক ততজন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধিত করা হবে।
এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে আরও বাস্তবভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং চাহিদানির্ভর—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহে ই-রিকুইজিশন
১৯তম নিবন্ধনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ চলছে, যা আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্ধারিত ইউজার আইডি ব্যবহার করে অনলাইনে এমপিওভুক্ত শূন্য পদের তথ্য জমা দিতে হচ্ছে। অফলাইন বা ই-মেইলে পাঠানো কোনো তথ্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অমান্য করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা এমনকি এমপিও বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন
পরীক্ষা পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে তিন ধাপ—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা—থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী- ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হবে; এরপর সরাসরি ভাইভা এবং প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত মেধা তালিকায় যুক্ত করা হবে। এতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের সমন্বিত মূল্যায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছে এনটিআরসিএ।
একক মানদণ্ডে পরীক্ষা
স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—এই তিন ধারার জন্য পৃথক পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে একটি অভিন্ন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বৈষম্য কমবে এবং মানসম্মত মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশের লক্ষ্য
ফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। আগে যেখানে ফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগত, সেখানে এবার পরীক্ষা শেষের মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা একটি বাস্তবভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি। এবার আগেভাগেই শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী নিবন্ধন দেওয়া হবে। যতটি পদ থাকবে, ঠিক ততজনকেই সনদ দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, এমসিকিউ ও ভাইভার সমন্বয়ে প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে এবং দ্রুত ফল প্রকাশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় গতি আনা হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

