আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন মঞ্জুর
Posted by: News Desk
November 15, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
শহিদুল আলমের জামিন প্রশ্নে দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান।
শহিদুল আলমের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, এ আদেশের ফলে শহিদুল আলমের মুক্তিতে বাধা নেই।
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম গত আগস্টে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনে রমনা থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকার হাকিম আদালতে শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ হলে তার আইনজীবীরা ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন।
এরপর ওই আদালতে তার জামিন সংক্রান্ত আবেদন নামঞ্জুর হলে ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর ওই আবেদনের শুনানিতে বিব্রবতবোধ করেন হাইকোর্ট। এ পর্যায়ে বিধি অনুসারে প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চকে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
জামিন আদেশের পর শহীদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি খুবই খুশি। বাংলাদেশের বিচারালয়ের ওপর আস্থা ফিরে পেয়েছি। এটা (জামিন) হওয়ারই কথা ছিল।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ বলেন, এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিলে যাবেন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৩ ও ৪ অগাস্ট জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে এসেছিলেন অধিকারকর্মী শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।
এরপর ৫ অগাস্ট শহিদুল আলমকে তার বাসা নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা করে তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠায়।
১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি হাই কোর্টে জামিন আবেদন করলে ৩ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়।
শুনানি শেষে গত ৭ অক্টোবর হাই কোর্ট শহিদুল আলমের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
সেই রুলের ওপর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হলেও গত ১ নভেম্বর মামলাটি ওই বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এরপর শহিদুল আলমের আইনজীবীরা আবেদনটি বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেন। আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এই বেঞ্চ আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে শহিদুল আলমকে জামিন দেন।
আলমের আলোকচিত্রী জামিন মঞ্জুর শহিদুল 2018-11-15