Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অন্তত ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে মদদ দিচ্ছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির অপতৎপরতা সমর্থনকারী ১৮ টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এ নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ।

যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বিবৃতিতে সিরিয়া সরকার এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের সমালোচনাও করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ক্ষতিকর কর্মকান্ডে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি ক্ষুন্ন হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান হিজবুল্লাহ, হামাস, ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদের মতো দলগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যাতে করে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ তার নিজ জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়ে যাওয়ার পরও ইরান আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদেরকে সমর্থন দিয়েও ইরান সেখানকার যুদ্ধ প্রলম্বিত করছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জারিফ বলেছেন, নিজ আরোপিত নিষেধাজ্ঞার হাতে বন্দি হয়ে পড়বে আমেরিকা। নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি খতিয়ে দেখার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেন তিনি। নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রবিষয়ক পরিষদের সভাপতি রিচার্ড হ্যাসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অন্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সাধারণভাবে কোনো ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করা যায় না। নিষেধাজ্ঞা আরোপের চলমান নীতি পরিবর্তন না করলে অচিরেই আমেরিকা নিজ আরোপিত নিষেধাজ্ঞার হাতে বন্দি হয়ে পড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে ইরান। সোমবার হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়। এর মধ্য দিয়ে গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করল, বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে নিজেদের পরমাণু চুক্তি মেনে চলছে ইরান।

গত বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারণাকালে ইরানের সঙ্গে এ পরমাণু সমঝোতা চুক্তিকে ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় গেলে এ চুক্তি বাতিল করবেন বলে হুশিয়ারিও দেন তিনি।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এ সমঝোতায় সই করে ইরান এবং ছয় জাতিগোষ্ঠীর সদস্য আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রতি ৯০ দিন পরপর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কংগ্রেসের কাছে ইরানের সমঝোতা মেনে চলার বিষয়টি অবশ্যই অবহিত করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গত সোমবার ছিল কংগ্রেসকে অবহিত করার শেষ দিন।

x

Check Also

মন্ত্রীদের বিদেশ সফর ও অভ্যন্তরীণ চলাচলে নতুন প্রটোকল জারি

এমএনএ প্রতিবেদক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশ গমন, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ...