Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / কাঠমিস্ত্রির ছেলে থেকে বিপ্লবী অত:পর স্বৈরাচার মুগাবে

কাঠমিস্ত্রির ছেলে থেকে বিপ্লবী অত:পর স্বৈরাচার মুগাবে

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আলোচিত ও সমালোচিত আফ্রিকান রাজনীতিক রবার্ট মুগাবে স্বাধীনতার নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ ৩৭ বছর পর ৯৩ বছর বয়সে এসে অনেকটা জনরোষেই পদত্যাগে বাধ্য হলেন।
গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড চাপের মুখে থাকা মুগাবে এমন সময় পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যখন পার্লামেন্টে তার অভিশংসন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।
আর তার পদত্যাগের ঘোষণার পরপরই উল্লাসে ফেটে পড়েছে রাজধানী হারারেসহ বিভিন্ন শহরের মানুষ।
তবে এতো সমালোচনা আর চাপের মধ্যেও শ্বেতাঙ্গ শাসন অবসান আর স্বাধীনতার নায়ক হিসেবে অনেকের কাছে তার অবস্থান নায়কের মতো। এমনকি যারা তাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়নে সোচ্চার হয়েছেন তাদের অনেকেরও সমালোচনার পাত্র আসলে মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবে, আর তাকে ঘিরে থাকা ‘অপরাধী’ চক্র।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এসেছেন মুগাবে। ছয় ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় রবার্ট মুগাবে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি ‘বিপ্লবী রাজনীতিতে’ জড়িয়ে পড়েন। তার বাবা ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রী। ১৯৩৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর কাজের সন্ধানে বুলাওয়ে শহরে যান মুগাবে। পরে আইরিশ এক পাদ্রির সঙ্গে থেকে নিজেকে গড়েন তিনি।
কখনো তুমুল জনপ্রিয়তা আবার কখনো তীব্র সমালোচনার মুখেও ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মুগাবে বরাবরই তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যদি নির্বাচনে হারো ও জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হও, তাহলে রাজনীতি ছাড়ার সময় এসেছে।’ কিন্তু সেই মুগাবেই নির্বাচনে হারার পরেও ক্ষমতায় থেকে বলেছিলেন, ‘কেবলমাত্র ঈশ্বরই আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে।’
রবার্ট মুগাবের বেড়ে উঠা ও রাজনৈতিক জীবন
১৯২৪ : মুগাবের জন্ম। পরে প্রশিক্ষণ নেন শিক্ষকতায়।
১৯৬১ : ঘানার স্যালি হেফ্রনকে বিয়ে করেন।
১৯৬৩ : ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতার ধারাবাহিকতায় জানু-পিএফ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৪ : বন্দিত্ব বরণ, প্রায় ১০ বছর রোডেশিয়ার কারাগারে ছিলেন তিনি।
১৯৮০ : ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর জিম্বাবুয়ের প্রধানমন্ত্রী হন, বিজীয় হন স্বাধীনতা-উত্তর নির্বাচনে।
১৯৮১ : নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।
১৯৮৭ : জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৯৪ : প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতিগত বিদ্বেষ অবসানের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক।
১৯৯৬ : গ্রেস মারুফুকে বিয়ে করেন।
২০০০ : গণভোটে পরাজয়। শ্বেতাঙ্গদের কৃষি খামার অধিগ্রহণ।
২০০২ : প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে জয়লাভ।
২০০৮ : প্রথম দফা নির্বাচনে হেরে যান। দ্বিতীয় দফায় সমর্থকদের ওপর ব্যাপক হামলার প্রেক্ষাপটে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সরে দাঁড়ান।
২০০৯ : নির্বাচনের প্রতিপক্ষ মর্গান সাভাঙ্গিরাইকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত।
২০১১ : উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যে জানা যায়, মুগাবে প্রস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন।
২০১৭ : দীর্ঘদিনের সহযোগী ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মাসাঙ্গাওয়ারকে বরখাস্ত এবং এরপরই নিজ দল জানু-পিএফ ও সামরিক বাহিনীর ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হলেন।
রবার্ট মুগাবের পর জিম্বাবুয়ের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন—এখনও সে ঘোষণা আসেনি। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মাসাঙ্গাওয়ার নামই বলা হচ্ছে সবার আগে। তিনি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে অজ্ঞাত স্থান থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানিয়েছিলেন। সূত্র: বিবিসি
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...