Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ঢাকাসহ ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ, ২৬ এপ্রিলের পর বাড়বে বৃষ্টি; ভোগান্তিতে ফুটপাতের ব্যবসায়ী, ভাসমান মানুষ

ঢাকাসহ ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ, ২৬ এপ্রিলের পর বাড়বে বৃষ্টি; ভোগান্তিতে ফুটপাতের ব্যবসায়ী, ভাসমান মানুষ

এমএনএ প্রতিবেদক

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের অন্তত ২০ থেকে ২৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, আর রাজশাহীর ওপর দিয়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, বিকেল ৩টার রেকর্ড অনুযায়ী খুলনা বিভাগসহ ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ফেনী, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও পটুয়াখালী জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার পর আরও কিছু জেলার তথ্য যুক্ত হতে পারে এবং বর্তমান তাপপ্রবাহ আরও অন্তত দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।

অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজশাহী জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বাকি অংশ, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ মোট ২৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়বে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে এবং সোমবার (২৭ এপ্রিল) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে এবং তাপপ্রবাহের তীব্রতাও হ্রাস পাবে।

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী ভাসমান মানুষ। প্রখর রোদ, উত্তপ্ত সড়ক, ধুলাবালি এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের দোকানিরা মাথার ওপর অস্থায়ী ছাউনি বা ছাতা টাঙিয়ে কোনোভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু গরমে ক্রেতা কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

ফুটপাতে ফল বিক্রি করা কালাম হোসেন বলেন, “এই গরমে বসে থাকা খুব কষ্টের। মাথা ঘোরায়, শরীর দুর্বল লাগে। তারপরও বসতে হয়, কারণ সংসার তো চালাতে হবে।”

কাপড় বিক্রেতা রহমত মিয়া বলেন, “আগে দিনে যা বিক্রি হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না। গরমে মানুষ বাইরে কম বের হয়, তাই আমাদের আয়ও কমে গেছে। না বসলে সংসার চলবে না।”

খেলনা বিক্রেতা আব্দুল আজিজের ভাষায়, “গরমের কারণে মানুষ কম আসে। বেচাকেনা কমে গেছে। কোনোরকমে সংসার চলছে।”

শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, ফুটপাতে বসবাসকারী ভাসমান মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয়। খোলা আকাশের নিচে তীব্র গরমে দিন-রাত পার করছেন তারা। বিশুদ্ধ পানি, পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি।

রহিমা বেগম নামের এক ভাসমান নারী বলেন, “এই গরমে সন্তানদের নিয়ে থাকা খুব কষ্ট। দিনে রোদে বসে থাকতে হয়, রাতে গরমে ঘুমানো যায় না। অনেক সময় পানি পর্যন্ত ঠিকমতো পাই না।”

আরেকজন ভাসমান মানুষ আব্দুল করিম বলেন, “মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই। গরমে শরীর জ্বলে যায়। কাজও ঠিকমতো করতে পারি না। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই।”

চিকিৎসকরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও খোলা পরিবেশে কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা পোশাক পরা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

যদিও তাপপ্রবাহে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনো অস্থির, তবুও ২৬ এপ্রিলের পর বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনায় কিছুটা স্বস্তির আশা দেখছেন নগরবাসী। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন দীর্ঘস্থায়ী ও অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

তাই শুধু তাৎক্ষণিক আবহাওয়া পরিস্থিতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা, সবুজায়ন এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এখনই গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

x

Check Also

সক্ষমতা

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় ...