Don't Miss
Home / সারাদেশ / ঢাকায় নিখোঁজ সাংবাদিক মুশফিকুর উদ্ধার

ঢাকায় নিখোঁজ সাংবাদিক মুশফিকুর উদ্ধার

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গত শনিবার ‘নিখোঁজ’ হওয়া মোহনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমানকে সুনামগঞ্জে পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় তাকে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দপুর এলাকার সড়কে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাঁকে সড়কের পাশে থাকা একটি মসজিদে নিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী ফুয়াদ মনি জানান, গোবিন্দপুরের মসজিদের ইমাম নামাজ পড়তে উঠলে একজন লোককে হাঁটাচলা করতে দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চান। পরে লোকটি তাঁর পরিচয় সাংবাদিক বললে তিনি সোহাগ মনিকে খবর দেন। পরে সোহাগ মনি সুনামগঞ্জ সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে।

উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান জানান, গত শনিবার গুলশান এলাকা থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর চোখের মধ্যে হঠাৎ তরল কিছু একটা ছিটিয়ে অজ্ঞান করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আর কিছুই বলতে পারেননি তিনি। আজ মঙ্গলবার ভোরে একটি গাড়ি থেকে তাঁকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় ফেলে গেলে তিনি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন।

সাংবাদিক মুশফিক আরো জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁকে শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চান, তিনি তখন তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর দুর্বৃত্তরা জানতে চায়, তিনি কীভাবে মরতে চান—গুলি খেয়ে নাকি গলা টিপে। কথা বলার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মুশফিক।

গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা সংবাদকর্মী ফুয়াদ মনি জানান, স্থানীয় লোকজন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তাকে খবর দেন। তিনি সেখানে যাবার পর মুশফিক তার পরিচয় পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ফুয়াদ পরে মুঠোফোনে মুশফিককে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। তিনি খুবই ক্লান্ত ছিলেন। তার চোখ-মুখ ফোলা ছিল। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মুসল্লিরা তাকে মসজিদের ভেতরে নিয়ে যান।

সদর হাসপাতালে মুশফিকুর রহমান জানান, তিনি কিভাবে এখানে এসেছেন কিছুই জানেন না। গত শনিবার গুলশান এলাকায় তার চোখে কোনো কিছু ছিটানো হয়। এরপর তিনি শুধু হেঁটেছেন মনে হয়েছে। এক পর্যায়ে তিরি আর কোনো কিছু বুঝতে পারেননি। যখন জ্ঞান ফিরে তখন টের পান চোখ, হাত বাধা। কয়েকজন লোক ছিল। তিনি তাকে কেন ধরে আনা হয়েছে জানতে চান। ওই লোকজন তাকে মেরে ফেলার কথা বলে। এই তিনদিন তাকে শুধু একটি কেক ও কিছু পেয়ারা খেতে দেওয়া হয়েছে। ভাত খেতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়। তাকে কয়েকবার মারধর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কেন তাকে ধরে নেওয়া হয়েছে তা ওই লোকজন বলেনি। একবার বলেছে তাকে গুলি করে মারবে, আরেকবার বলে জবাই করবে।

তিনি সুনামগঞ্জে কিভাবে এলেন কিছুই বুঝতে পারেননি। গাড়ি থেকে নামানোর পর তাকে বলা হয়েছে দৌঁড় দিতে। এরপর তিনি দৌঁড়াতে থাকেন। মুশফিক বলেন, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। কেন কারা এটা করেছে আমি বুঝতে পারছি না।

হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির উদ্দিন জানান, মুশফিকের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকলেও তাকে বেশ মারধর করা হয়েছে। ব্যথা আছে। চোখে কোনো কিছু দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তিনি ঝাপসা দেখছেন। তবে বিশ্রাম নিলে এসব ঠিক হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাত হোসেন বলেন, ‘আমরা স্থানীয় একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করি। তাঁর সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র দেখে এবং ঢাকায় তাঁর পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে উনি নিখোঁজ হওয়া সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় তাঁর পরিবার ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা এলে তাঁকে হস্তান্তর করা হবে।’

পুলিশ আরো জানায়, মুশফিকুর রহমানের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। তবে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গত শনিবার নিখোঁজ হন। তিনি ঢাকার মিরপুরে থাকতেন। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার চরগোয়ালি গ্রামে বাড়ি তার।

x

Check Also

নেতাজীর সম্পদ রহস্য: ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়ে দলিলের আলো

মহসীনুল করিম ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এমন এক নাম, যাঁকে ঘিরে ইতিহাস, ...