প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে আবার বড় দরপতন
Posted by: News Desk
February 18, 2018
এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আজ রবিবার দেশের পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। একের পর এক বড় দরপতন হচ্ছে দেশের শেয়ারবাজারে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে প্রায় দুই শতাংশ। অপরবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে প্রায় দেড় শতাংশ।
বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমে যাওয়ায় এদিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সবগুলো সূচকই আগের দিনের চেয়ে কমেছে।
এ নিয়ে টানা দুই কার্যদিবস দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হলো। ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে এমন দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণ নিয়ে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে ডিএসইর নীতি নির্ধারকদের এক ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের মতে, টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও সেনজেন কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।
তবে বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চাচ্ছেন টেন্ডারে অংশ নেয়া ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফন্ট ইয়ার বাংলাদেশ ও নাসডাক কনসোর্টিয়ামকেও কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে রাখতে। এ জন্য ডিএসইর পর্ষদের ওপর তারা (বিএসই) চাপ প্রয়োগ করছে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনাকে ভিত্তি করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ (টিআইবি) বিভিন্ন পক্ষ থেকে উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। আবার টিআইবির উদ্বেগের প্রতিবাদও করেছে বিএসইসি।
কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়ে এমন ঘটনায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে- অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর বিষয়ে আগামীকাল সোমবার চূড়ান্ত বৈঠকে বসবে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। বৈঠকে শুধু চীনের কনসোর্টিয়ামকেই কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে ডিএসইর পর্ষদের এক সদস্য বলেন, চীনের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর শেয়ারের সর্বোচ্চ দর দিয়েছে। আমরা ওই তাদেরকেই কৌশলগত বিনিয়োগকারী করতে চাই। আমাদের বিকল্প কোনো চিন্তা নেই।
ডিএসইর অপর এক সদস্য বলেন, বিএসইসি যে আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে এটা ওপেন সিক্রেট। বিভিন্ন মহল থেকে এর প্রতিবাদ করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন ভূমিকার কারণে সার্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএসইসির অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেই উদ্বেগের প্রতিবাদ জানাতে বিএসইসি নজরিবিহীনভাবে গতকাল শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বন্ধের দিনে বিএসই’র বিজ্ঞপ্তিতেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজার পর্যালোচনা দেখা যায়, বাজার পর্যালোচনা দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে (রবিবার) মূল্যসূচক ও লেনদেনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।
ব্যাপক দরপতনের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হলেও শুরুতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে সেটাও মাত্র তিন মিনিটের জন্য। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় দিনের লেনদেন শুরুর তিন মিনিট পর সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স-আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৫৬ পয়েন্টে ওঠে। তবে এরপরই শুরু হয় পতন। সকাল ১১টা ১১ মিনিটে সূচকটি কমে ৬ হাজার ১১ পয়েন্টে নেমে আসে।
এরপর সাড়ে ১১টা নাগাদ সূচকটি ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৬ পয়েন্টে উঠলেও এরপর ক্রমাগত কমতে থাকে। এক পর্যায়ে দুপুর ২টা ১২ মিনিটে সূচকটি আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে নেমে যায়। শেষ দিকে আবার সামান্য বাড়লেও দিনের লেনদেন শেষে সূচকটি আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯৫০ পয়েন্ট নেমে আসে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দু’টি মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৯৪ পয়েন্টে।
ডিএসইএক্স ছাড়াও এদিন ডিএসইএস সূচক আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৯৪ পয়েন্টে ও ডিএসই৩০ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে নেমে আসে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১৭৮ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ১১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেন হওয়া ২২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৮২টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির দাম।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আজ রবিবার লেনদেন হওয়া ৩৩৬টি কোম্পানি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪৯টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমে ২৭০টির। আর আগের দিনের দরে অপরিবর্তিত থাকে ১৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৪৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকা শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়। আগের দিন (বৃহস্পতিবার) লেনদেন হয় ৫১২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে আজ লেনদেন কমেছে ৭১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ রবিবার লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দরপতন হয়েছে, যার প্রভাবে কমেছে সবগুলো সূচকই।
টাকার অংকে ডিএসইতে আজ রবিবার সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার। এদিন কোম্পানিটির মোট ১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনিক হোটেলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার। আর ১২ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।
লেনদেনে এরপর রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণফোন, মুন্নু সিরামিক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ফু-ওয়াং সিরামিক, কেয়া কসমেটিক এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।
সিএসইতে এদিন লেনদেন হওয়া ২২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৭টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমে ১৭৬টির। আর আগের দিনের দরে অপরিবর্তিত থাকে ১৪টির দর।
দিন শেষে সিএসই৫০ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৯৩ পয়েন্টে, সিএসই৩০ সূচক ২২৮ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৭৩২ পয়েন্টে, সিএসইএক্স সূচক ১৪৮ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে, সিএএসপিআই সূচক ২৫১ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৪৭০ পয়েন্টে ও সিএসআই সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে নেমে আসে।
তবে বেশিরভাগ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দরপতন এবং এর প্রভাবে সবগুলো সূচক কমলেও সিএসইতে আজ রবিবার লেনদেন আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। এদিন সিএসইতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা বেশি।
আবার প্রথম বড় কার্যদিবসে দরপতন পুঁজিবাজারে 2018-02-18