Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / মিকি মাউসের ৯২তম জন্মদিন আজ

মিকি মাউসের ৯২তম জন্মদিন আজ

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : লাল শর্টস, বড় হলুদ জুতা ও সাদা গ্লাভস পরা একটি ইঁদুর। যার নাম মিকি মাউস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম নির্মল আনন্দ বিলিয়ে যাওয়া বিখ্যাত কার্টুন চরিত্রটির ৯২তম জন্মদিন আজ সোমবার।

বিশেষ দিনটি নানান আয়োজনে পালন করছে দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি ও পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মিকির অগণিত ভক্তরা।

১৯২৮ সালে অ্যানিমেটেড শর্টফিল্ম ‘স্টিমবোট উইলি’র মাধ্যমে দুনিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ইঁদুরটি প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে। এরপর তাকে দেখা গেছে ফ্যাশন, শিশু শিক্ষা ও ভোটের ময়দানের। অর্থাৎ, মিকি মাউস একটি কার্টুন চরিত্রেরও বেশি কিছু।

মিকি মাউসের আবির্ভাবের পেছনে একটি ঘটনা আছে। অ্যানিমেটর ওয়াল্ট ডিজনির তৈরি আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র ছিল ‘অসওয়াল্ড দ্য লাকি রযাস বিট’। খরগোশ চরিত্রটি নিয়ে ডিজনির বিরোধ হয় ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে। পরে অসওয়াল্ড নিয়ে নতুন কিছু তৈরির স্বত্ব হারান ডিজনি। এ ঘটনার কারণে দৃশ্যপটে আসে মিকি ও তার সঙ্গী মিনি মাউস। ডিজনির কল্পিত রাজ্যে মিকি ও মিনি সুখী দম্পতি। প্রতিবছর ১৮ নভেম্বর চরিত্র দুটি ঘটা করে নিজেদের জন্মদিন পালন করে।

মিকি মাউসের সঙ্গে ‘হট ডগ’ শব্দটি সমার্থকই হয়ে গেছে প্রায়। ১৯২৯ সালে মুক্তি পায় সিনেমা ‘দ্য কার্নিভ্যাল কিড’। এটি মিকিকে নিয়ে নবম সিনেমা আর যেখানেই প্রথমবার কোনো শব্দ উচ্চারণ করে। মিকি উচ্চারিত প্রথম শব্দটি ছিল ‘হট ডগ, হট ডগ’। চরিত্রটিকে সব মিলিয়ে ১৩০টি সিনেমায় দেখা গেছে। এর মধ্যে ১০টি সিনেমার অ্যানিমেটেড শর্টফিল্ম বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পায়, পুরস্কার জেতে ‘লেন্ড দ্য পো’। ১৯৩১ সালের ১২ মার্চ মিকি প্রথমবারের মতো একটি লাইভ শো’তে আসে। এ ছাড়া টিভি শো, কমিক স্ট্রিপ, ভিডিও গেমসহ নানা মাধ্যমে ছড়িয়েছে চরিত্রটি।

মিকি মাউস তৈরির সময় বিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের কথা ভেবেছিলেন ওয়াল্ট ডিজনি। ১৯৩৫ সালে অ্যানিমেটর ফ্রেড মুর নতুনভাবে সাজায় মিকিকে। তিনি যোগ করেন বড় চোখ, সাদা গ্লাভস ও ছোট নাক।

চরিত্রটিকে শুধু বিনোদনের উপকরণ ভাবলে ভুল হবে। মিকি মাউসকে নিয়ে তৈরি হয়েছে মিথস্ক্রিয়ামূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মিকি মাউস ক্লাব হাউস’। যেখানে আরও থাকে মিনি মাউস, ডোনাল্ড ডাক, ডেইজি, গোপি, কুকুর প্লুটো ও যান্ত্রিক সহকারী টুডলস। এরা সবাই এখন জনপ্রিয় চরিত্র। সৃজনশীল এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের নানা বিষয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

ফ্যাশনেও মিকি মাউস দারুণ জনপ্রিয়। জিনসের সঙ্গে তার ছবি সংবলিত টি-শার্ট অনেকের গায়ে দেখা যায়। এর মধ্যে আছেন গায়ক জন মেয়ার, মডেল গিগি হাদিদ, অভিনেত্রী এমা রবার্টস ও সারাহ হাইল্যান্ডসহ অনেকে। মিকি এক্সেসরিজের মধ্যে আরও রয়েছে চাবির রিং, বেল্ট, হেয়ারব্যান্ড, ব্রেসলেট, ঘড়ি, মোজাসহ অনেক কিছু।

যুক্তরাষ্ট্রে মিকি মাউসের একটি ব্যবহার শুনলে মজা পাবেন। ভোটের ময়দানে কোনো প্রার্থী পছন্দ না হলে অনেক ভোটার ‘কেউ না’র বদলে মিকি মাউসের নাম লিখে থাকেন। জর্জিয়ার এক নির্বাচনী কর্মকর্তার মতে, যদি কোনো নির্বাচনে মিকি মাউস ভোট না পায়, সেটা একটা বাজে নির্বাচন। যত দূর জানা যায়, ১৯৩২ সালে নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনে প্রথমবার পছন্দের প্রার্থী হিসেবে মিকি মাউসের নাম লেখা হয়।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনেরও প্রতীক এই চরিত্রটি। উদাহরণ হিসেবে ১৯৬৯ সালের প্যারোডি কমিক ‘মিকি মাউস ইন ভিয়েতনাম’কে স্মরণ করা হয় এখনো।

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...