যুবরাজকে ‘নরখাদক’ ও ‘জানোয়ার’ ভাবতেন খাসোগি
Posted by: News Desk
December 4, 2018
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : হত্যার শিকার সাংবাদিক জামাল খাসোগির চোখে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ছিলেন একজন ‘নরখাদক’ ও ‘জানোয়ার’। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে সৌদি থেকে কানাডায় নির্বাসিত বন্ধু ওমর আবদুল আজিজের কাছে খাসোগির পাঠানো বার্তা থেকে এমনটা জানা গেছে।
মন্ট্রিলভিত্তিক অধিকারকর্মী আজিজের সঙ্গে খাসোগির পাঠানো চার শতাধিক বার্তা বিশ্লেষণ করে গতকাল সোমবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। আর এসব বার্তার সূত্র ধরেই খুলতে পারে হত্যাকাণ্ডের জট।
খাসোগি প্রায়ই তার পাঠানো বার্তায় যুবরাজকে ‘জানোয়ার’ ও ‘প্যাক-ম্যান’ বলে উল্লেখ করতেন। যুবরাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আজিজের সঙ্গে আলোচনা করতেন খাসোগি। আজিজ নিজেই ওই বার্তাগুলো প্রকাশ করেছেন।
গত মে মাসে পাঠানো এক বার্তায় সৌদি মানবাধিকার কর্মীদের ধরপাকড়ের বিষয়ে খাসোগি বলেছিলেন, ‘যত লোক তার ক্ষতি করবে, তত লোককেই সে (যুবরাজ) ‘খেয়ে’ ফেলবে। আমি অবাক হব না, তার গুণগান গেয়েছে এমন ব্যক্তিরাও যদি তার অত্যাচারের শিকার হন।’
খাসোগি বলেন, ‘তিনি (যুবরাজ) এমন একজন ব্যক্তি যে তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাকেই তিনি নিশ্চিহ্ন করে দেন। এমনকি ওইসব ব্যক্তি তার সহযোগী কিংবা ঘনিষ্ঠ হলেও মাফ পান না।’
সিএনএনের হাতে আসা ওইসব বার্তার মধ্যে ভয়েস রেকর্ডিং, ছবি এবং ভিডিও রয়েছে। সৌদি রাজতন্ত্রের ক্ষমতাধর যুবরাজ সালমান একজন ব্যক্তিকে কতটা সমস্যায় ফেলতে পারেন তার চিত্র পাওয়া যায় এসব বার্তায়।
সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিজ বলেন, ‘তারা সৌদি রাজতন্ত্রকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করাতে অনলাইনে যুবকদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করার পরিকল্পনাও করছিলেন। খাসোগি বিশ্বাস করত, সালমানই সৌদির প্রধান সমস্যা। এই ধাপ্পাবাজকে থামাতে হবে।’
চলতি বছরের আগস্টে তারা বুঝতে পারেন তাদের বার্তা আদান-প্রদানের ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ নজরদারি করছে। তখন খাসোগি বিপদের পূর্বলক্ষণ অনুধাবন করেন।
তিনি তার বন্ধু আবদুল আজিজকে বলেন, ‘ভয় পেও না, আল্লাহ আমাদের পাশে আছে।’ আর এ ঘটনার ঠিক দুই মাস পর সৌদির পাঠানো ১৫ সদস্যের কিলিং স্কোয়াডের হাতে নির্মমভাবে খুন হন খাসোগি। হত্যার দু’মাস পার হয়ে গেলেও সেই হত্যাকাণ্ডের সঠিক কোনো তথ্য বেরিয়ে আসেনি।
‘জানোয়ার’ ‘নরখাদক’ খাসোগি যুবরাজ 2018-12-04