এমএনএ প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ও তার দলের রাজনৈতিক ভিশন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রথম দিন থেকেই দেশের কল্যাণে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত ভাষণে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পেলে প্রথম দিন ফজর নামাজ আদায় করেই তার দল রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যক্রম শুরু করবে।
একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি দেশবাসীকে পাঁচটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং পাঁচটি বিষয়ে ‘না’ বলার আহ্বান জানান। ‘হ্যাঁ’-এর তালিকায় তিনি সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে অন্তর্ভুক্ত করেন। অন্যদিকে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলেই দেশে অপশাসনের পথ চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন—
শিক্ষা: নৈতিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে জীবনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিচার বিভাগ: সৎ ও মেধাবীদের নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অর্থনীতি: ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে ব্যাপক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করবেন। করপোরেট জগত থেকে রাজনীতি—সবখানেই যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—কেউ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করবে না। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও ওপর আঘাত আসলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানে সংস্কার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ আরও সহজ করা হবে। পাশাপাশি সংসদে আনুপাতিক হারে প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন বা মনোনয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণদের হাত ধরেই ‘বাংলাদেশ ২.০’—একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বকে আমানত হিসেবে উল্লেখ করে হযরত ওমর (রা.)-এর ন্যায়নিষ্ঠ শাসনব্যবস্থার আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

