Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / তরুণ ভোটারদের ওপর ভর করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বৃহস্পতিবার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

তরুণ ভোটারদের ওপর ভর করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বৃহস্পতিবার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

এমএনএ প্রতিবেদক

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন।

নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী ১৮৩৫ বছর বয়সীরা যুব হলেও ইসি ৩৩ বছর পর্যন্ত ভোটারদের তরুণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২৬২৯ বছর বয়সী ভোটার সবচেয়ে বেশি (১ কোটি ২১ লাখের বেশি)। এরপর রয়েছে ২২২৫ বছর বয়সী ভোটার (১ কোটি ১৯ লাখ)। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভোটার ঢাকা অঞ্চলে (১ কোটি ৮৩ লাখের বেশি) এবং সবচেয়ে কম ফরিদপুর অঞ্চলে (৬১ লাখের কিছু বেশি)।

তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী ও জ্যেষ্ঠ ভোটারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ৬০ বছরের বেশি বয়সী ভোটার রয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ।

নির্বাচন ঘিরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ প্রায় সব বাহিনী অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি মাঠে থাকছেন প্রায় ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এবার প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪১৮টি ড্রোন আকাশ থেকে নজরদারি করবে। ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহার করবেন ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি আনসার সদস্য।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১৬ হাজার ৩৫৯টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনি সহিংসতায় ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২৭৪টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেল পলাতক আসামি, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চলছে। অনলাইনে গুজব ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে সাইবার নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

ভোটারদের আস্থা ফেরাতে সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহল দেবে। দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নৌ ও বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর দাবি, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এবারের নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে নির্বাচন যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তবে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবেএমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।

x

Check Also

আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, আসছে রুটভিত্তিক কোম্পানি ব্যবস্থা

এমএনএ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে ...