এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের ওপর দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে আজ সোমবার হোম অব ক্রিকেটে লিডের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১২৩ রান। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৮ এবং ম্যাথু ওয়েড ৫ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।
১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিন শেষ কাঁপতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপদটা আরও বাড়ে দ্বিতীয় দিন সকালে আরও বাড়ে অধিনায়ক স্মিথের ফেরায়। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে একটু এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৮ রানে স্মিথ ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে শক্ত হাতে হাল ধরেন ম্যাট রেনশ আর পিটার হ্যান্ডসকম্ব। রেনশ অবশ্য ফিরতে পারতেন। কিন্তু মিরাজের বলে আম্পায়ার তাঁকে একবার এলবিডব্লু দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি।
বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে যা একটু লড়েছেন ম্যাট রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব। রেনশ আর পিটার হ্যান্ডসকম্বের জুটিটা চোখ রাঙাচ্ছিল। ৬৯ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয়টা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু হ্যান্ডসকম্বকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ-শিবিরে স্বস্তি ফেরান তাইজুল। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে তাইজুলের বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন হ্যান্ডসকম্ব।
হ্যান্ডসকম্বের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন না রেনশ। সাকিবের বলে সৌম্যকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা অজি ওপেনার রেনশ। আর তার বিদায়ের লিডের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। রেনশ ৪৫ এবং হ্যান্ডসকম্ব করেন ৩৩ রান। ডেভিড ওয়ার্নার (৮) এবং উসমান খাজার (১) পর ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও (৮)।
বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুল ইসলাম নেন একটি উইকেট।৪ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ১৩৭ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা। উইকেটে এখন অস্ট্রেলিয়ার শেষ স্বীকৃত ব্যাটিং জুটি—ম্যাথু ওয়েড আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
আজ সোমবার ৩ উইকেটে ১৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই উইকেট হারায়। দিনের শুরুতে মিরাজকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন স্মিথ।
পঞ্চম উইকেটে রেনশ ও হ্যান্ডসকম্ব বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই দুজন গড়েন ৬৯ রানের দারুণ জুটি। হ্যান্ডসকম্বকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল। এরপর রেনশকে সৌম্যর ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশ শিবিরকে আনন্দে ভাসান সাকিব।
বোলারদের দাপটের দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড নেয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কার মুখে পড়েছে অজিরা। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে ২৬৯ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটাই ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

